
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিতে চাইল সারা ভারত ফরওয়ার্ড ব্লক (Forward Bloc)। দলের পক্ষ থেকে জারি করা এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে রাজ্যের সমস্ত নেতাজী অনুগামী, প্রাক্তন কর্মী ও সংগঠকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে আলি ইমরান রামজ (ভিক্টর) সহ যাঁরা অতীতে নানা কারণে দল থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন, তাঁদের সসম্মানে দলে ফেরার আবেদন জানানো হয়েছে।
ফরওয়ার্ড ব্লকের সাধারণ সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় এক লিখিত বিবৃতিতে জানান, অতীতে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি এবং সাংগঠনিক মতভেদের কারণে বহু কর্মী ও নেতা দল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই বিভাজন ভুলে সকলকে আবার এক ছাতার নিচে আসার সময় এসেছে। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শকে সামনে রেখে আগামী দিনে বাংলায় বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনের পটভূমি তৈরি করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
আরও দেখুন: শিরোনামে আই লিগ! বড়সড় আপডেট সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফরওয়ার্ড ব্লক শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি নেতাজীর আদর্শ ও আত্মত্যাগের উত্তরাধিকার বহনকারী একটি ঐতিহাসিক সংগঠন। তাই ব্যক্তিগত অভিমান বা ক্ষুদ্র মতভেদ ভুলে বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। দলের মতে, বর্তমান সময়ে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই অবস্থায় একটি শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তুলতে হলে পুরনো ও নতুন সকল কর্মী-সমর্থকের সম্মিলিত প্রয়াস অপরিহার্য।
68b24621-b929-49fa-97ae-a85df86ddc60 
আলি ইমরান রামজের নাম উল্লেখ করে দলের তরফে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একসময় ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেতার প্রত্যাবর্তন ঘটলে সংগঠনের শক্তি বাড়বে বলেই মনে করছেন দলের একাংশ। যদিও এ বিষয়ে তাঁর তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নরেন চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন, “নেতাজীর আদর্শ আমাদের পথ দেখায় ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সংগ্রাম। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলার মাটিতে সেই আদর্শকে সামনে রেখেই নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় রচনা সম্ভব।” তিনি জানান, খুব শীঘ্রই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে জেলা স্তরে একাধিক বৈঠক ও কর্মসূচি নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাম রাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ফরওয়ার্ড ব্লকের এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরেই দলটি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল অবস্থায় ছিল। ফলে পুরনো কর্মীদের ফেরানোর এই আহ্বান সংগঠনকে নতুন গতি দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি বৃহত্তর বাম রাজনীতির ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

