বিএনপি বনাম জামায়াতের ‘জেন-জি’ ফ্যাক্টর! বাংলাদেশে হাসিনা-পরবর্তী ভোট কেন ঐতিহাসিক?

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শেখ হাসিনা শাসনের অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রথম জাতীয় নির্বাচন। এই ...

By Moumita Biswas

Published:

Updated:

Follow Us
Bangladesh election after Sheikh Hasina

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের শেখ হাসিনা শাসনের অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রথম জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে দেশের মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। বিতর্কিত নির্বাচন এবং সংকুচিত রাজনৈতিক পরিসরের পর এবার দেশে গণতান্ত্রিক ধারার পুনরুত্থান হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নোবেলজয়ী ড. মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হল-

   

হাসিনা-পরবর্তী প্রথম ভোট

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে টানা দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটে নতুন বাস্তবতায় এই ভোট হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নেই Bangladesh election after Sheikh Hasina

গত চারটি নির্বাচনে বিজয়ী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (AL) এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যার ফলে তাদের বিশালসংখ্যক সমর্থক এবার সরাসরি কোনও প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন না।

মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা: বিএনপি বনাম জামায়াত-এনসিপি জোট

নির্বাচনটি মূলত একটি “দ্বিমুখী লড়াই” হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে রয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), অন্যদিকে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রনেতাদের দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP) এর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

 একইসাথে সংবিধান সংস্কারের গণভোট

ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপার পাবেন। সাদা ব্যালটটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালটটি জুলাই জাতীয় সনদের (July National Charter) উপর গণভোটের জন্য। এই সনদে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করাসহ বড় ধরনের সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে।

“জেন জি” (Gen Z)-এর প্রভাব

এই নির্বাচনকে বিশ্বের প্রথম “জেন জি-অনুপ্রাণিত” নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP) গঠন করে নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ভোটের সময় ও লজিস্টিকস

সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪:৩০ মিনিট পর্যন্ত মোট ৪২,৭০০টিরও বেশি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলবে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণার কথা রয়েছে।

 বিশাল ভোটার তালিকা

দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লক্ষ। এর মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক তরুণ ভোটার এবার প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google