জম্মু: ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে আবারও ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লা এবং পুঞ্চ জেলায় একযোগে ঘটে (border explosion)। এই দুটি ঘটনায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্তত ১৩ জন জওয়ান আহত হয়েছেন, এবং পুঞ্চে দুজন সেনা শহিদ হয়েছেন। বর্তমানে পুঞ্চে জঙ্গিদের সঙ্গে ভারতীয় সেনার তীব্র সংঘর্ষ চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।সেনা সূত্র জানিয়েছে, বারামুল্লা জেলায় আজ ভোররাত্রি একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।
এতে চারজন ভারতীয় সেনা আহত হন, যাদের মধ্যে একজন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) রয়েছেন। আহতদের দ্রুত সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। এই বিস্ফোরণটি সম্ভবত আইইডি বা গ্রেনেডের মাধ্যমে ঘটানো হয়েছে, যা সেনা পেট্রোলিং দলের কাছাকাছি ফেটেছে। এই ঘটনা কাশ্মীর উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নতুন করে আক্রমণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।অন্যদিকে, পুঞ্চ জেলায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর।
আরও দেখুন: ভারত-পাক ম্যাচের আগেই বিতর্কিত স্পিনারকে নিয়ে বিস্ফোরক সুইঙের সুলতান
সেখানে দুটি বিস্ফোরণের পর সেনা কনভয় বা পোস্টের কাছে হামলা চালানো হয়। এতে নয়জন সেনা আহত হন এবং দুজন শহিদ হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিস্ফোরণের পরপরই জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করে, যার ফলে সেনাবাহিনী পালটা জবাব দেয়। বর্তমানে পুঞ্চের জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় অভিযান চলছে। সেনা অফিসাররা বলছেন, জঙ্গিরা পাকিস্তান-সমর্থিত গোষ্ঠীর সদস্য হতে পারে, যারা লাইন অফ কন্ট্রোল (এলওসি) পার হয়ে অনুপ্রবেশ করেছে।
এই সংঘর্ষে আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এই ঘটনাগুলো জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির সাম্প্রতিক উদাহরণ। গত কয়েক মাসে পুঞ্চ-রাজৌরি সেক্টরে জঙ্গি হামলা বেড়েছে, যেখানে সেনা ও স্থানীয়দের লক্ষ্য করে আক্রমণ হচ্ছে। বারামুল্লা, যা কাশ্মীর উপত্যকার একটা সংবেদনশীল এলাকা, সেখানেও এমন ঘটনা বিরল নয়। সেনাবাহিনী বলছে, এই বিস্ফোরণগুলো জঙ্গিদের নতুন কৌশলের অংশ যেখানে আইইডি এবং অ্যাম্বুশের মাধ্যমে সেনাদের টার্গেট করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর সেনাবাহিনী এলাকায় সতর্কতা বাড়িয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, “আমরা সব ধরনের হুমকির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। শহিদদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।” স্থানীয় প্রশাসনও এলাকায় শান্তি বজায় রাখার জন্য কাজ করছে।




















