কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও বকেয়া মহার্ঘভাতা (DA) মেটায়নি রাজ্য সরকার। উল্টে শীর্ষ আদালতে গিয়ে আরও সময় চেয়েছে নবান্ন। এর প্রতিবাদেই আগামীকাল, শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজ্যজুড়ে সরকারি দফতর ও স্কুল-কলেজে ধর্মঘটের ডাক দিল সরকারি কর্মচারী পরিষদ, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ-সহ একাধিক সংগঠন। অন্যদিকে, এই ধর্মঘট যেকোনো মূল্যে ব্যর্থ করতে এবং অফিস-কাছারি সচল রাখতে বদ্ধপরিকর রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। সব মিলিয়ে শুক্রবার রাজ্যজুড়ে জোর সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে।
কেন এই ধর্মঘটের ডাক?
মূলত বকেয়া ডিএ আদায় এবং নিয়োগের দাবিতেই এই বনধের ডাক দিয়েছে সরকারি বিরোধী সংগঠনগুলি৷ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া মহার্ঘভাতার ২৫ শতাংশ এখনও মেটায়নি রাজ্য। শীর্ষ আদালতে রাজ্যের আরও সময় চাওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছে সংগঠনগুলি। পাশাপাশি রাজ্যে পড়ে থাকা প্রায় ৬ লক্ষ সরকারি শূন্যপদ অবিলম্বে পূরণের দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত এই ধর্মঘট পালন করা হবে। তবে, হাসপাতাল বা পরিবহণের মতো জরুরি পরিষেবা দানকারী ক্ষেত্রগুলিকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
‘দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে’, হুঁশিয়ারি আন্দোলনকারীদের West Bengal DA arrears strike
ধর্মঘট সর্বাঙ্গীণ সফল করতে ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় সরকারি দফতরগুলিতে জোরদার প্রচার শুরু করেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সরকারি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দেবাশিস শীল জানান, “শীর্ষ আদালতে আমরা মামলায় জিতলেও সরকার নির্দেশ মানছে না। সব ক্ষেত্রে কর্মচারীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে, কিন্তু প্রাপ্য অধিকারটুকু দিচ্ছে না। এর প্রতিবাদেই আমাদের এই ধর্মঘট। আমরা রাস্তায় নামব এবং সব ক্ষেত্রের কর্মীদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।”
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর ঘোষের কড়া প্রতিক্রিয়া, “এই সরকার কর্মীদের ন্যূনতম ডিএ-টুকুও দিচ্ছে না। সরকারি কর্মীদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। এটা এখন তাদের অস্তিত্বের লড়াই। ধর্মঘট সফল হবেই।”
বনধ রুখতে মরিয়া তৃণমূলপন্থী সংগঠন
আন্দোলনকারীদের এই হুঁশিয়ারির পালটা জবাব দিয়েছে তৃণমূল সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। তারা সরকারি কর্মীদের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য পালটা প্রচার চালাচ্ছে।
সংগঠনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এই ধর্মঘট সফল হবে না। আমরা সরকারি কর্মীদের অফিসে আসতে বলেছি, তাদের ওপর নজর থাকবে। গণতান্ত্রিক রাজ্যে সবাই বনধ ডাকতে পারে, কিন্তু পরিষেবা ব্যাহত হলে তা কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না।”
মুখ্যমন্ত্রীর কাজের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি কর্মীদের জন্য অনেক কাজ করেছেন। এ রাজ্যে এখনও পেনশন চালু আছে, যা অন্য অনেক রাজ্যে নেই। নিয়মিত ডিএ-ও দেওয়া হচ্ছে। বিরোধীরা আসলে শুধু বিরোধিতা করার জন্যই এসব করছে।”
আগামীকাল ধর্মঘটের জেরে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ কতটা ব্যাহত হয়, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।




















