
গুয়াহাটি: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসির (Owaisi)মধ্যে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ওয়াইসি হিমন্তের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন, যা একটি এখন মুছে ফেলা ভিডিয়ো নিয়ে। এই ভিডিয়োতে হিমন্তকে একটি রাইফেল হাতে দেখানো হয়েছে, যা মুসলিমদের প্রতীকীভাবে লক্ষ্য করে ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক শট’ এবং ‘নো মার্সি’র মতো কথা লেখা ছিল। ভিডিয়োটি অসম বিজেপির অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে ৭ ফেব্রুয়ারি পোস্ট করা হয়েছিল, কিন্তু পরের দিনই মুছে দেওয়া হয়।
তবু সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ দায়ের করে ওয়াইসি বলেছেন, এই ভিডিয়ো ‘জেনোসাইডাল হেট স্পিচ’ এবং মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। তিনি অভিযোগে বলেন, এটা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা ছড়ানোর চেষ্টা এবং জাতীয় ঐক্যের বিরুদ্ধে কাজ। ওয়াইসি দাবি করেছেন, ভিডিয়োতে হিমন্তকে দেখানো হয়েছে যেন তিনি মুসলিমদের (স্কালক্যাপ পরা ব্যক্তিদের) লক্ষ্য করে গুলি করছেন।
আরও দেখুন: SIR মামলায় বাড়ল স্ক্রুটিনির সময়
এমনকি একজনের মুখ কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের মতো দেখতে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওয়াইসি বলেছেন, এ ধরনের ঘৃণা ছড়ানো এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে, যা দেশের সামাজিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক।এদিকে দিব্রুগড়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি জেল যেতে প্রস্তুত। কী করব? আমি কোনো ভিডিয়ো সম্পর্কে কিছু জানি না।
ওয়াইসি যদি আমার বিরুদ্ধে মামলা করেন, তাহলে গ্রেফতার করুন; আমার কোনো আপত্তি নেই। আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমি আমার কথায় অটল। আমি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরোধী এবং থাকব।”হিমন্তের এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি ভিডিয়োটিকে নিজের সঙ্গে যুক্ত করতে চান না, কিন্তু তার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরোধিতার অবস্থান থেকে সরছেন না।
অসমে দীর্ঘদিন ধরে এই ইস্যু রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। হিমন্ত প্রায়ই ‘মিয়া মুসলিম’ বা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে কথা বলেন, যা তিনি বলেন অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু ওয়াইসি এবং অন্যান্য বিরোধীরা বলেন, এটা পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে।এই ঘটনা দেশের রাজনীতিতে নতুন করে বিভাজন তৈরি করেছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভিডিয়োটি হয়তো স্যাটায়ার বা রাজনৈতিক বার্তা ছিল, কিন্তু এটা মুছে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন, এটা ‘ফ্যাসিজমের মুখ’ এবং ঘৃণা ছড়ানোর চেষ্টা। ওয়াইসির অভিযোগে আইপিসির ধারা যেমন ১৫৩এ (সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা), ২৯৫এ (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত) এবং অন্যান্য ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।













