নয়াদিল্লি: ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে ওঠানামা করতে শুরু করেছে৷ এই পরিস্থিতিতে দেশের একাধিক বড় শহর থেকে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের (LPG Cylinder) ঘাটতির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে৷ ফলে সমস্যায় পড়েছেন হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসায়ীরা৷
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক আগে আশ্বাস দিয়েছিল যে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও ভারতে তেল বা গ্যাসের বড় সংকট তৈরি হবে না৷ তবে বাস্তবে বহু ব্যবসায়ীর দাবি, গত কয়েকদিন ধরে বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে৷ এর ফলে হোটেল ও রেস্তরাঁ চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে৷
বেঙ্গালুরুতে এই সমস্যা সবচেয়ে প্রকট হয়ে উঠেছে বলে সূত্র মারফত খবর পাওয়া গিয়েছে৷ শহরের হোটেল ও রেস্তরাঁ মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, গ্যাস না পাওয়ার কারণে বহু প্রতিষ্ঠানের পরিষেবা চালিয়ে যেতে অসুবিধা হচ্ছে৷ পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মঙ্গলবার থেকেই একাধিক হোটেল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে৷
বেঙ্গালুরু দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র৷ বিভিন্ন রাজ্য থেকে কাজের সূত্রে বহু মানুষ সেখানে বসবাস করেন৷ তাঁদের মধ্যে অনেকেই প্রতিদিন খাবারের জন্য হোটেল ও রেস্তরাঁর উপর নির্ভর করেন৷ ফলে এই পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷
হোটেল মালিকদের অভিযোগ, তেল সংস্থাগুলি আগে অন্তত ৭০ দিনের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল৷ কিন্তু আচমকা সেই সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন৷ এই পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে কোথাও কোথাও গ্যাসের কালোবাজারিও শুরু হয়ে গিয়েছে৷ তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে৷
শুধু বেঙ্গালুরু নয়, তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাইয়েও একই ধরনের সমস্যার কথা জানা গিয়েছে৷ সেখানকার বহু হোটেল মালিক জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত নেই৷ ফলে সারাদিন পরিষেবা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে৷ শুধু চেন্নাই বা বেঙ্গালুরু হয়৷ একই পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে মুম্বইও৷ সেখানকার ব্যবসায়ীদের দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তরাঁ সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে৷




















