‘খুনি’ রবীন্দ্রনাথকে সাসপেন্ড করে অর্জুনকে বার্তা পার্থর!

কলকাতা: তৃণমূল কাউন্সিলরের দাদাগিরি! ৮১ বছরের বৃদ্ধ তুলসী অধিকারীকে লাথি মারার অভিযোগ (Barrackpore councillor)। জখম বৃদ্ধের মৃত্যু এবং কাউন্সিলর গ্রেফতার। এই ঘটনা সামনে আসতেই কাউন্সিলরকে সাসপেন্ড করেছে দল। ...

By Sandipa Sil

Published:

Follow Us
barrackpore-councillor-rabindranath-suspended

কলকাতা: তৃণমূল কাউন্সিলরের দাদাগিরি! ৮১ বছরের বৃদ্ধ তুলসী অধিকারীকে লাথি মারার অভিযোগ (Barrackpore councillor)। জখম বৃদ্ধের মৃত্যু এবং কাউন্সিলর গ্রেফতার। এই ঘটনা সামনে আসতেই কাউন্সিলরকে সাসপেন্ড করেছে দল। ব্যারাকপুরের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন পার্থ ভৌমিক। এর পিছনে কৌশলে অর্জুন সিংয়ের বার্তা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। ব্যারাকপুরের মণিরামপুরের বাসিন্দা, পেশায় আইনজীবী। ব্যারাকপুর বার কাউন্সিলরের সম্পাদক। বেশ প্রভাবশালী। ব্যারাকপুরেই নাকি তাঁর দুই সংসার। এই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য অর্জুন সিংয়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। আরও বড় বিষয় হচ্ছে একুশের ভোটের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন সাংসদ অর্জুনের হাত ধরে। একুশের বিধানসভা ভোটের সময় তিনিই ছিলেন ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি। ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূলে নাম লেখান রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। ২০২২ সালে ঘাসফুলের প্রতীকে ব্যারাকপুরের কাউন্সিলর হন।

   

আখতার আলির হদিশ নেই, হানা দিয়ে খালি হাতেই ফিরল সিবিআই

এই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য তৃণমূলের কাউন্সিলর হওয়ার কয়েক মাস পরে তৃণমূলে ফেরেন অর্জুন সিং। চব্বিশের ভোটের মুখে ফের বিজেপির ঘরে ঢোকেন অর্জুন। তখন বারবার বলেছিলেন, “আমি বিজেপি কর্মীদের বাঁচাতে দলবদল করে তৃণমূলে গিয়েছিলাম। সবসময় তাঁদের আইনি সাহায্য দিয়েছি।” ব্যারাকপুর কোর্টে কান পাতলে শোনা যায় অর্জুনের আইনি লড়াইয়ের অন্যতম বড় ভরসা ছিলেন আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।

অর্জুনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সুসম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। তৃণমূলের দুঁদে কাউন্সিলর, তার উপরে আবার আদালতের প্রভাবশালী। সূত্রের খবর, এই রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই দ্বন্দ্ব ছিল। এই পরিস্থিতিতে তাঁর তাণ্ডবে বৃদ্ধের মৃত্যুতে যেন তৃণমূলের শাপে বর হল। বিধানসভা ভোটের আগে অর্জুন ঘনিষ্ঠ রবীন্দ্রনাথকে দল থেকে ছেঁটে ফেললেন পার্থ। সেই সঙ্গে ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদকে বার্তাও দিলেন বর্তমান সাংসদ।

উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তুলসি অধিকারীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুলসি অধিকারীর পরিবারের সঙ্গে পাশের একটি বাড়ির অবৈধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। অভিযোগ, ওই নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভায় লিখিত অভিযোগও জানিয়েছিল অধিকারী পরিবার। বিষয়টি নিয়ে পুরসভার পক্ষ থেকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।

রবিবার সকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেদিন তুলসি অধিকারীর বাড়িতে পুরসভা এবং ব্যারাকপুর থানার পুলিশ যায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। পরিবারের অভিযোগ, তার কিছুক্ষণ পরেই স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য সেখানে উপস্থিত হন এবং অধিকারী পরিবারকে হুমকি দেন। এরপর বচসা চরমে উঠলে তুলসি অধিকারীর উপর হামলা চালানো হয়। তাঁকে মারধর করা হয় এবং লাথি মারা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তুলসি অধিকারীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পরই শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা সরাসরি কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন থানায়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠায় এবং পরে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিরোধী দলগুলো তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ করে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে জানানো হয়, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sandipa Sil

আইনের ছাত্রী। শিক্ষানবীশ আইনজীবী। সাংবাদিকের সঙ্গে সংসারের সূত্রে সংবাদে আগ্রহ। কলকাতা24x7-এর মাধ্যমে পথ চলার শুরু।

Follow on Google