কেন হঠাৎ ২২ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল ভারত, সীমান্তে কী ঘটছে?

নয়াদিল্লি: ভারত সরকারের কড়া অভিযানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ২২ জন বাংলাদেশী (Bangladeshi)মুসলিম নাগরিককে নির্বাসিত করা হয়েছে। এরা মূলত পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছিল বলে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Updated:

Follow Us
india-deports-22-bangladeshi-nationals-immigration-crackdown

নয়াদিল্লি: ভারত সরকারের কড়া অভিযানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ২২ জন বাংলাদেশী (Bangladeshi)মুসলিম নাগরিককে নির্বাসিত করা হয়েছে। এরা মূলত পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকেছিল বলে অভিযোগ। গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে তারা দাবি করেছে যে ভারতের মধ্যেই একটি সংগঠিত মুসলিম ডালাল (দালাল) নেটওয়ার্কের সাহায্যে তারা সীমান্ত পার হয়েছে।

এই নেটওয়ার্ক প্রতিদিনই লোকজনকে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে ঢোকাচ্ছে বলে তাদের বয়ানে উল্লেখ রয়েছে।পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এই ২২ জনকে বিভিন্ন অভিযানে ধরা হয়েছে কেউ কেউ দিল্লি, মুম্বই বা অন্যান্য শহরে কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়েছে, আবার কেউ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায়। তাদের বিরুদ্ধে বিদেশি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

   

আরও দেখুন: এপস্টিনের জেরে দেশ জুড়ে চলছে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

নির্বাসিতদের মধ্যে পুরুষ, মহিলা ও কয়েকজন যুবক রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছে, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারতীয় ডালালরা যোগাযোগ করে, টাকা নিয়ে গাইড করে সীমান্ত পার করিয়েছে। এই নেটওয়ার্কে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু লোক জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। তারা আরও বলেছে, এই রুট দিয়ে প্রতিদিন ১০-২০ জন করে লোক ঢুকছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ দিনাজপুর ও অসমের করিমগঞ্জ, ধুবড়ি এলাকা দিয়ে।

ভারত সরকারের তরফে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কড়া অভিযান চলছে। ২০২৫ সাল থেকে দিল্লি পুলিশ একাই ২,২০০-এর বেশি বাংলাদেশী নাগরিককে নির্বাসিত করেছে, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। আসাম, গুজরাত, মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশি অভিযান চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে ‘অপারেশন সিঁদুর’ বা অনুরূপ অভিযানে সন্দেহভাজনদের ধরে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু এই অভিযান নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, অনেক ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিক বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলিম কে ভুল করে ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করে পুশব্যাক করা হচ্ছে। আসামে এনআরসি প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়া অনেকে এই অভিযানের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও একাধিকবার হস্তক্ষেপ করে নিজের নাগরিকদের ফিরিয়ে এনেছে।

এই ২২ জনের ক্ষেত্রে ডালাল নেটওয়ার্কের উল্লেখ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পুলিশ বলছে, এই নেটওয়ার্ক খুব সংগঠিত বাংলাদেশ ও ভারতের দুই পাশে লোক রয়েছে। তারা টাকা নেয় ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত, তার বিনিময়ে সীমান্ত পার করে শহরে কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। অনেকে নির্মাণ শ্রমিক, ঝাড়ু-পরিষ্কারের কাজ বা ছোট ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ধরা পড়লে নির্বাসনের ভয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, ২০২৫-২০২৬ সালে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google