ঢাকা: আজ ঢাকায় ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ (Dhaka protest)। ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে পুলিশের নির্যাতন ও দমনমূলক আচরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমেছেন। সরকারি কর্মচারীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং চিফ অ্যাডভাইজার মুহাম্মদ ইউনুসের সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে পৌঁছে যায়।
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত সকাল থেকে। সরকারি কর্মচারীরা নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে শহীদ মিনারে জড়ো হন। তারা শাহবাগ থেকে মিছিল করে যমুনার দিকে অগ্রসর হন।
আরও দেখুন: মিয়া বিতর্কে ওআইসিকেও রেহাই দিলেন না মামা
বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, “পেটে ভাত নেই, উন্নয়ন শুধু কথায়”, “অন্যায় রক্ত দিয়ে ধোয়া হবে”। ব্যারিকেড ভেঙে তারা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, ওয়াটার ক্যানন ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওয়াটার ক্যাননের গাড়িতে উঠে পড়েন, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।একই দিনে আরেকটি গ্রুপ, ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে একই এলাকায় বিক্ষোভ করে।
হাদি গত ডিসেম্বরে গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে মারা যান। তারা ইউএন-এর তদন্তের দাবি তোলেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ২৩ জনেরও বেশি আহত হন। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি, শুধু নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার একটা চিত্র তুলে ধরেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তারা সংস্কার ও নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এমন সহিংসতা দেখা যাচ্ছে। পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা কমেছে, মব ভায়োলেন্স বেড়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৬ রিপোর্টে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, রাজনৈতিক হিংসা বেড়েছে।বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করছেন, পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। একজন আহত কর্মচারী বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাতে এসেছিলাম, কিন্তু লাঠি-টিয়ার গ্যাস দিয়ে স্বাগত জানালেন। এটা কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের আচরণ?”
অন্যদিকে সরকার বলছে, ব্যারিকেড ভাঙা ও সহিংসতার চেষ্টা হয়েছে, তাই নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।এই ঘটনা নির্বাচনের আগে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচন বয়কট করেছে, বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে অস্থিরতা। মব লিঞ্চিং, রাজনৈতিক হত্যা বেড়েছে। ইউনুস সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও পুলিশ সংস্কারে অগ্রগতি কম। জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে এই অন্তর্বর্তীকাল কি সত্যিই নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে, নাকি পুরনো দমনের ছায়া ফিরে আসছে?




















