তেহরান: ইরানের রাজধানী তেহরানের পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্বাস-আলি মোহাম্মাদিয়ানকে (Abbas Ali Mohammadian)’নির্মূল’ করা হয়েছে বলে একাধিক রিপোর্ট ছড়িয়ে পড়েছে। এই খবর ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং কিছু আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে যে, আমেরিকা এবং ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। তবে ইরান সরকার বা আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে এখনও কোনো নিশ্চিতকরণ আসেনি।
এই ঘটনা জানুয়ারি মাসের ব্যাপক বিক্ষোভে তাঁর ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে, যেখানে তাঁর নির্দেশে পুলিশ বাহিনী বিক্ষোভকারীদের উপর নির্মম দমন চালিয়েছিল বলে অভিযোগ।আব্বাস-আলি মোহাম্মাদিয়ান ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে তেহরানের গ্রেটার পুলিশ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি আলবোর্জ প্রদেশে ল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট ফোর্সেস (LEF)-এর প্রধান ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাঁকে বারবার অভিযুক্ত করেছে বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, গ্রেফতার এবং হত্যার জন্য।
আরও দেখুনঃ যুদ্ধের প্রভাবে কলকাতায় সোনা ও রূপোর দরে ওঠানামা
বিশেষ করে জানুয়ারি ২০২৬-এর বিক্ষোভে তেহরানে শত শত বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে দাবি উঠেছে, যার জন্য তাঁর বাহিনীকে দায়ী করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে বলা হচ্ছে, “তাঁর বাহিনী হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে,” এবং এখন “ন্যায়বিচার হয়েছে”। কিছু পোস্টে এটিকে “DEVIL is DEAD” বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রতিশোধের অনুভূতি প্রকাশ করে।এই খবরের সূত্রপাত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে, যেখানে ফেসবুক, এক্স (টুইটার) এবং অন্যান্য সাইটে “ELIMINATED” শিরোনামে পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে।
একটি পোস্টে বলা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলাগুলো ইরানের উপর বড় মাত্রার ছিল বলে জানা যাচ্ছে, যাতে সুপ্রিম লিডার আলি খামেনেইসহ অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। চীনা মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, প্রাথমিক হামলায় ৪০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ডিফেন্স মিনিস্টার, IRGC কমান্ডার এবং অন্যান্যরা রয়েছেন। মোহাম্মাদিয়ানের নামও এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে বলে দাবি।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত অস্থির। জানুয়ারি বিক্ষোভ ছিল অর্থনৈতিক সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি দমনের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে স্লোগান দিয়েছিল স্বাধীনতা এবং ন্যায়ের জন্য। পুলিশের নির্মম দমনে অনেকে নিহত এবং আহত হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং অন্যান্যরা এই দমনকে “গণহত্যা” বলে অভিহিত করেছে। মোহাম্মাদিয়ানের ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয় তিনি সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দেশ তাঁকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রেখেছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য।




















