লখনউ: উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের রাজপথ আজ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।(Maulana Abdullah Salim) শহরের বিভিন্ন এলাকায় শত শত মানুষ জড়ো হয়ে বিহারের একজন ধর্মীয় নেতা মৌলানা আবদুল্লাহ সলিম চতুর্বেদীর পুতুল জ্বালিয়ে দিয়েছে। কারণ? একটি ধর্মীয় সভায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মায়ের প্রতি করা তাঁর আপত্তিকর ও অশোভন মন্তব্য। এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, এবং অনেকে এটিকে ধর্মীয় সৌহার্দ্যের উপর আঘাত বলে মনে করছেন।
প্রতিবাদকারীরা দাবি করেছেন যে, এমন মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বিহারের একটি ধর্মীয় সমাবেশ থেকে। মৌলানা আবদুল্লাহ সলিম চতুর্বেদী, যিনি বিহারের একজন পরিচিত ক্লেরিক হিসেবে পরিচিত, সেখানে যোগী আদিত্যনাথের মায়ের প্রসঙ্গ টেনে এমন কিছু কথা বলেছেন যা প্রতিবাদকারীদের মতে অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং আপত্তিকর।
আরও দেখুনঃ জালিয়াতির অভিযোগে তারেকের বিরুদ্ধে জামাতের প্রতিবাদে সিআইএ ছায়া
যদিও মন্তব্যের সঠিক শব্দগুলো এখনও পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি, কিন্তু ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। লখনউয়ের প্রতিবাদকারীরা বলছেন, “মৌলানা সলিম জাতীয়-বিরোধী মন্তব্য করছেন। যোগী আদিত্যনাথের মায়ের প্রতি আপত্তিকর কথা বলেছেন, যা আমরা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারি না।” একজন প্রতিবাদকারী সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, “এটা শুধু যোগীজির বিরুদ্ধে নয়, এটা মাতৃত্বের অপমান, যা আমাদের সকলের অপমান।”
প্রতিবাদ মিছিলটি লখনউয়ের কেন্দ্রীয় এলাকায় শুরু হয়। শতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে স্থানীয় যুবক, ছাত্র এবং বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা ছিলেন, মৌলানার ছবি সম্বলিত পুতুল তৈরি করে তা আগুনে পোড়ান। স্লোগান উঠছে: “মায়ের অপমান সহ্য হবে না!”, “আইনি ব্যবস্থা নাও!”, “ধর্মের নামে অপমান বন্ধ করো!” পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে, কিন্তু কোনো বড় সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রতিবাদকারীরা একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কাছে, যাতে মৌলানার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের দাবি করা হয়েছে।এই ঘটনা উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিজেপি নেতারা এটিকে “ধর্মীয় উস্কানি” বলে চিহ্নিত করেছেন এবং বলছেন যে, যোগী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। একজন বিজেপি নেতা বলেছেন, “যোগীজি উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাই কিছু লোক তাঁর পরিবারকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করছে।
কিন্তু জনতা এটা মেনে নেবে না।” অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এখনও নীরব রয়েছে, যদিও কেউ কেউ বলছেন যে, ধর্মীয় বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।মৌলানা আবদুল্লাহ সলিম চতুর্বেদী নিজে এখনও এই প্রতিবাদের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে তাঁর পূর্ববর্তী কয়েকটি বক্তব্যে যোগী আদিত্যনাথের নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন, যেমন কুম্ভ মেলা বা অন্যান্য ধর্মীয় বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন। এই ঘটনা তাঁর সেই ধারাবাহিকতার অংশ কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। কিন্তু প্রতিবাদকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মায়ের প্রতি মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য।



















