কাঠমান্ডু: নেপালে ভোট গ্রহণের পর আজ শুক্রবার শুরু হয়েছে ভোট গণনা (Balen Shah)। সূত্রের খবরে জানা যাচ্ছে র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা বালেন্দ্র শাহের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ভালো জায়গায় রয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ৫২টিতে তার দল এগিয়ে রয়েছে। এই নির্বাচন গত বছরের জেন জি-বিক্ষোভের পর প্রথমবার হচ্ছে। তবে বালেন্দ্র শাহ ভারত বিরোধী হিসেবেই পরিচিত।
তিনি নিজে প্রকাশ্যে ভারত বিরোধী মন্তব্য না করলেও তিনি প্রথম গ্রেটার নেপালের মানচিত্র দেখিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে ভারতের নতুন সংসদ ভবনে ‘অখণ্ড ভারত’ ম্যুরাল স্থাপনের প্রতিবাদে বালেন শাহ তাঁর অফিসে একটি ‘গ্রেটার নেপাল’ মানচিত্র টানান। এই মানচিত্রে ভারতের উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশ নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
আরও দেখুনঃ সম্পূর্ণ কম্প্রোমাইস্ড! মোদীর বিদেশনীতি নিয়ে বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী
৫ মার্চ, ২০২৬-এ নেপালের সাধারণ নির্বাচন শেষ হয়েছে। ভোট গণনা শুরু হতেই দেখা যাচ্ছে, ঐতিহ্যবাহী দলগুলো যেমন নেপালি কংগ্রেস এবং সিপিএন-ইউএমএল পিছিয়ে পড়েছে, আর বালেন শাহের আরএসপি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। কাঠমান্ডু পোস্ট এবং অন্যান্য স্থানীয় মিডিয়া জানাচ্ছে, আরএসপি ৫২টি আসনে লিড করছে, যেখানে নেপালি কংগ্রেস মাত্র কয়েকটিতে এগিয়ে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দল সিপিএন-ইউএমএলও একক অঙ্কের আসনে আটকে আছে।
বালেন নিজে ঝাপা-৫ আসনে ওলির বিরুদ্ধে লড়াই করে এগিয়ে রয়েছেন, যা তার জনপ্রিয়তার একটা বড় প্রমাণ। বালেন শাহ, যাকে সবাই বালেন বলে ডাকে, মাত্র ৩৫ বছর বয়সী। তিনি একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং র্যাপার। ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন, যা নেপালের রাজনীতিতে একটা চমক ছিল। মূলধারার দলগুলোকে হারিয়ে তিনি জিতেছিলেন। পরে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিতে যোগ দেন এবং প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে উঠে আসেন।
তার স্টাইল কালো সানগ্লাস, র্যাপ গান এবং সোজাসাপটা কথা যুবকদের মনে দারুণ জায়গা করে নিয়েছে। এই সার্জের পিছনে মূল চালিকাশক্তি হলো যুব ভোটার এবং শহুরে সমর্থন। নেপালের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি ৩৫ বছরের নিচে। বেকারত্ব, দুর্নীতি, পুরনো রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এসব নিয়ে জেন জি-এর বিক্ষোভ গত বছর সরকারকে উল্টে দিয়েছিল। বালেনের গান যেমন “নেপাল হাসেকো” প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি, যুবকদের জন্য চাকরি এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের। শহরাঞ্চলে, বিশেষ করে কাঠমান্ডু, ললিতপুর, পোখরা এসব জায়গায় তার সমর্থন ঝড়ের মতো।



















