ওমানের তেল ট্যাঙ্কার আক্রমণের বলি মহারাষ্ট্রের অমৃতলাল

amrutlal-solanki-killed-oman-oil-tanker-drone-attack

মুম্বই: মহারাষ্ট্রের কান্ডিভালির বাসিন্দা দীক্ষিত অমৃতলাল সোলাঙ্কি। (Amrutlal Solanki)ওমানের তেল ট্যাঙ্কারে কাজ করতেন তিনি। ওমানের মাসকাট উপকূলের কাছে, হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি একটি তেল ট্যাঙ্কারে থাকাকালীন তিনি নিহত হয়েছেন। ট্যাঙ্কারে একটি বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন বোট দিয়ে আঘাত করা হয়। যার ফলে ট্যাঙ্কারে আগুন লাগে এবং অমৃতলালের মৃত্যু হয়। দীক্ষিত অমৃতলাল সোলাঙ্কির বয়স ছিল ৩৩ বছর।

তিনি মার্শাল আইল্যান্ডস-ফ্ল্যাগযুক্ত তেল ট্যাঙ্কার এমটি এমকেডি ভ্যোম-এ অয়েলার হিসেবে কাজ করছিলেন। ট্যাঙ্কারটি প্রায় ৫৯,০০০ মেট্রিক টন গ্যাসোলিন নিয়ে যাচ্ছিল এবং পোর্ট সুলতান কাবুসের দিকে যাচ্ছিল। গত ১ মার্চ (সোমবার) মাসকাট উপকূল থেকে প্রায় ৫২ নটিক্যাল মাইল দূরে এই আক্রমণ হয়। ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার নিশ্চিত করেছে যে একটি বোট দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে, যা ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ উগ্রবাদে প্রতিবাদী ইন্দো-কানাডিয়ান ইউটিউবারকে নৃশংস ভাবে হত্যা করল খালিস্তানীরা

দীক্ষিত ইঞ্জিন রুমে থাকায় সরাসরি আঘাত পান এবং মারা যান। জাহাজে মোট ২৫ জন ক্রু ছিলেন ১৬ জন ভারতীয়, চারজন বাংলাদেশি এবং অন্যান্য। বাকি সবাইকে একটি পাসিং শিপ উদ্ধার করে মাসকাটে নিয়ে যায়। তারা এখন সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দেশে ফিরছেন। দীক্ষিতের পরিবার কান্ডিভালিতে শোকে মুহ্যমান। তিনি দিউ থেকে মুম্বাইয়ে এসেছিলেন, কান্ডিভালিতে থাকতেন।

সম্প্রতি তার মায়ের মৃত্যুর পর কিছুদিন বাড়িতে ছিলেন, তারপর ডিসেম্বর ১০, ২০২৫-এ জাহাজে যোগ দেন। প্রায় ৮০ দিনের সার্ভিস শেষ করার মুখে এই দুর্ঘটনা। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, “ছেলে সবসময় বলত, সমুদ্র তার জীবন। কিন্তু এভাবে চলে যাবে ভাবিনি।” তারা এখন দেহ ফেরতের অপেক্ষায়। ভারতীয় দূতাবাস মাসকাটে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে।