মুম্বই: আমেরিকার বিচার দফতরের প্রকাশ করা নতুন নথি আবারও আলোচনায় নিয়ে (Jeffrey Epstein)এসেছে কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টিনের বিস্তৃত যোগাযোগের জাল। বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বহুদিন ধরেই বিতর্ক ছিল। এবার সেই তালিকায় উঠে এসেছে ভারতের ধনকুবের পরিবারের এক সদস্য, শিল্পপতি অনিল আম্বানির নামও।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এপস্টিন ও অনিল আম্বানির মধ্যে একাধিক বার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল। সেই সময়টিই ছিল এপস্টিনের জীবনের শেষ অধ্যায়, কারণ ২০১৯ সালেই তাকে নাবালিকা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। নথিতে দেখা যায়, দু’জনের কথোপকথন শুধু ব্যবসা বা বিশ্বরাজনীতিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
আরও দেখুন: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৩,২৪০ কিলোমিটার বেড়া দেওয়া শেষ! জানাল কেন্দ্র
একটি বার্তায় এপস্টিন আম্বানিকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কী ধরনের নারীদের পছন্দ করেন। উত্তরে আম্বানি এক পর্যায়ে চলচ্চিত্র জগতের প্রসঙ্গ তোলেন। এমনকি তাঁদের কথোপকথনে ভবিষ্যতে সাক্ষাতের পরিকল্পনাও ছিল। নথি বলছে, ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে এপস্টিনের বাড়িতে দু’জনের একটি সাক্ষাৎও হয়েছিল।
এই তথ্য প্রকাশের পর আম্বানির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে ২০০৮ সালে দোষ স্বীকার করার পরও কীভাবে এপস্টিন বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে এত সহজে যোগাযোগ বজায় রাখতে পেরেছিলেন। জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে এপস্টিন আম্বানি পরিবারের ইতিহাস নিয়ে লেখা কয়েকটি বইও সংগ্রহ করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল তার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করার একটি কৌশল, যাতে ভবিষ্যতে যোগাযোগ স্থাপন সহজ হয়।
অনিল আম্বানি ও তাঁর বড় ভাই মুকেশ আম্বানির পারিবারিক ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব বহু পুরনো। তাঁদের বাবা ধীরুভাই আম্বানির মৃত্যুর পর ব্যবসা ভাগ হয়ে যায়। মুকেশ বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তি, অন্যদিকে অনিলের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে গত এক দশকে। ২০১৯ সালে একটি আদালত-নির্দেশিত ঋণ শোধ করতে না পারলে অনিল আম্বানিকে জেলেও যেতে হতে পারত, শেষ মুহূর্তে ভাই মুকেশ অর্থ পরিশোধ করে সেই পরিস্থিতি এড়ান।
এদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও সম্প্রতি অনিল আম্বানি ও তাঁর সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন রুপির ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে নতুন এই নথি প্রকাশ তাঁর জন্য আরও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
জেফ্রি এপস্টিনের মৃত্যু হলেও তার যোগাযোগের বিস্তৃতি ও প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখনও অনুসন্ধান চলছে। নতুন নথি প্রকাশের ফলে আবারও পরিষ্কার হচ্ছে, তিনি শুধু আমেরিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তার প্রভাব ছড়িয়েছিল ইউরোপ, এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও। এই ঘটনার রাজনৈতিক বা আইনি প্রভাব কী হতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একথা নিশ্চিত, এপস্টিনের যোগাযোগের জাল যত সামনে আসছে, ততই বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে।




















