ইসলামাবাদ: ইসলামাবাদের খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার পর নতুন (Islamabad)একটি চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এসেছে। হামলাকারীর আত্মীয়রা ইসলামাবাদ পোস্টকে বলেছেন যে, আত্মঘাতী হামলাকারী ইয়াসির (বা ইয়াসির খান) বিস্ফোরণের আগে পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
শুধু তাই নয়, তারা দাবি করেছেন যে মুনির এবং অন্যান্য কয়েকজন জেনারেলের সঙ্গে বৈঠকের পর ইয়াসিরকে নগদ টাকা এবং একটি করোলা ধরনের গাড়ি দেওয়া হয়েছিল। এই দাবিগুলি এখন তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারণ এটি হামলার পিছনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।হামলাটি ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ জুমার নামাজের সময় ঘটে।
আরও দেখুন: বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কলকাতাবাসী, কোন কোন রাস্তা বন্ধ? জানুন বিস্তারিত
খাদিজাতুল কুবরা ইমামবাড়াহ ও মসজিদে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩১ জন নিহত এবং ১৬৯ জনেরও বেশি আহত হন। আইএসআইএস দায় স্বীকার করেছে, কিন্তু পাকিস্তানি তদন্তকারীরা বলছেন যে হামলাকারী ইয়াসির খান পেশোয়ারের বাসিন্দা এবং আফগানিস্তানে পাঁচ মাস ধরে ফিতনা আল-খোয়ারিজ (টিটিপি-সংশ্লিষ্ট) গোষ্ঠীর কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
তিনি মসজিদের গেটে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং তারপর বিস্ফোরণ ঘটান।কিন্তু ইয়াসিরের আত্মীয়দের দাবি অন্য গল্প বলছে। তারা বলেছেন যে হামলার কয়েকদিন আগে ইয়াসির মুনির এবং অন্যান্য জেনারেলদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর তাকে নগদ অর্থ এবং একটি করোলা গাড়ি দেওয়া হয়, যা সম্ভবত হামলার প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
আত্মীয়রা দাবি করেছেন যে এই সাক্ষাৎ এবং সহায়তা হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ইসলামাবাদ পোস্ট জানিয়েছে যে এই দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ফটোগ্রাফিক প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এখনও কোনো ছবি বা নথি প্রকাশিত হয়নি, কিন্তু এই অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।এই দাবি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অনেকে এটিকে ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন বলে মনে করছেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর আদিল রাজার একটি পুরনো ভিডিও আবার ভাইরাল হয়েছে, যাতে তিনি বলেছিলেন যে মুনির কোনো বড় ঘটনা ঘটিয়ে দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে চাইবেন বিশেষ করে গাজা-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে। হামলার পর কিছু মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে যে এটি মুনিরের নিয়ন্ত্রণ হারানোর লক্ষণ, অথবা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ঢাকার চেষ্টা।
পাকিস্তান সরকার এবং সেনাবাহিনী এখনও এই দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং মুনির হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়েছেন এবং হামলার নিন্দা করেছেন। তদন্ত চলছে, এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আফগানিস্তানের সঙ্গে যোগসূত্রের কথা বলেছেন, এমনকি ভারতকে প্রক্সি ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু আত্মীয়দের দাবি নতুন মোড় এনে দিয়েছে।




















