নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে কাউন্টার অ্যাফিডেভিট দাখিল করে (Mamata Banerjee) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। কমিশনের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং ভাষণগুলি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।
এতে অফিসাররা হুমকির মুখে পড়েছেন, কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অনেকে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার আবেদন করেছেন।এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের তরফে দাখিল করা অ্যাফিডেভিটে বলা হয়েছে যে, অন্যান্য রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া মসৃণভাবে চললেও পশ্চিমবঙ্গে পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন।
এখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, হিংসা, ভাঙচুর এবং কর্মকর্তাদের প্রতি অবিরাম হুমকির ঘটনা ঘটছে। কমিশনের মতে, এসবের পিছনে রয়েছে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা এবং একটি পদ্ধতিগত ধরনের বাধা সৃষ্টির চেষ্টা।বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়ে কমিশন কড়া মন্তব্য করেছে। অ্যাফিডেভিটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রী একাধিক জনসভা ও সাংবাদিক সম্মেলনে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন।
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬-এর একটি প্রেস কনফারেন্সের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, তিনি ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সরাসরি হুমকি দিয়েছেন এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন। কমিশনের ভাষায়, মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণগুলি “inherently provocative” এবং এতে নির্বাচনী আধিকারিকদের মধ্যে ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এমনকি একজন মাইক্রো অবজার্ভারের নাম করে তাকে সরাসরি টার্গেট করার অভিযোগও উঠেছে।এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার কয়েকটি উদাহরণ অ্যাফিডেভিটে তুলে ধরা হয়েছে। নভেম্বর ২০২৫-এ কলকাতায় চিফ ইলেকটোরাল অফিসারের অফিস ঘেরাও করা হয়, ব্যারিকেড ভাঙা হয়, ভাঙচুর চালানো হয় এবং কর্মকর্তাদের ঢোকা-বেরোনো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জানুয়ারি ২০২৬-এ একটি ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারের অফিসে প্রায় ৭০০ জনের ভিড় হামলা চালায়। এছাড়া বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) বিরুদ্ধে হুমকি, গ্রাম্য এলাকায় অবরোধ এবং পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। কমিশন বলছে, স্থানীয় পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে এফআইআর দিতে অনীহা দেখিয়েছে, শুধু জেলা নির্বাচনী অফিসারদের হস্তক্ষেপে কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নয়জন মাইক্রো অবজার্ভার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার আবেদন করেছেন। কমিশনের দাবি, এমন পরিবেশে কর্মকর্তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিপন্ন হচ্ছে। অ্যাফিডেভিটে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসআইআর-এর সময় ৫৮ লক্ষেরও বেশি অনুপস্থিত, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটার চিহ্নিত হয়েছে এবং প্রায় ১.৫১ কোটি নোটিশ জারি করা হচ্ছে।




















