ভারতীয় সেনাবাহিনী ঔপনিবেশিক যুগের অবশেষ মুছে ফেলার বড় পদক্ষেপ নিয়েছে (Indian Army)। দেশজুড়ে ২৪৬টি রাস্তা, ভবন, আবাসিক কলোনি এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনার নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ আমলের নামগুলোকে সরিয়ে সেখানে স্থান দেওয়া হয়েছে ভারতের বীর সেনানীদের নাম যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, অসীম সাহস দেখিয়েছেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেনাবাহিনী নিজের পরিচয়কে আরও গভীরভাবে ভারতীয় ইতিহাস, মূল্যবোধ ও সামরিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে।এই নাম পরিবর্তনের তালিকায় রয়েছে ১২৪টি রাস্তা, ৭৭টি আবাসিক কলোনি, ২৭টি ভবন ও সামরিক স্থাপনা এবং ১৮টি অন্যান্য স্থান যেমন পার্ক, প্রশিক্ষণ এলাকা, খেলার মাঠ, গেট এবং হেলিপ্যাড।
সীমান্তে বেড়া ইস্যুতে কেন্দ্রকে নয়া চাল মমতার
সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, এই পরিবর্তনগুলো গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত বীর যোদ্ধা, যুদ্ধের নায়ক এবং বিশিষ্ট সামরিক নেতাদের সম্মান জানানোর জন্য করা হয়েছে। এতে সাহস, ত্যাগ ও নেতৃত্বের মূল্যবোধগুলো প্রতিফলিত হবে, যা সেনাবাহিনীর প্রতিদিনের জীবনে সৈনিকদের অনুপ্রাণিত করবে।কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কথা বললে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে মল রোড এখন অরুণ খেত্রপাল মার্গ।
১৯৭১ সালের যুদ্ধে মাত্র ২১ বছর বয়সে শত্রুর ট্যাঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে অসীম সাহস দেখিয়ে পরম বীর চক্রপ্রাপ্ত দ্বিতীয় লেফটেন্যান্ট অরুণ খেত্রপালের নামে এই রাস্তা। একই ক্যান্টনমেন্টে কিরবি প্লেস (অফিসার্স অ্যাকমোডেশন) এখন কেনুগুরুসে বিহার। অম্বালা ক্যান্টনমেন্টে প্যাটারসন রোড কোয়ার্টার্স হয়েছে ধন সিং থাপা এনক্লেভ ১৯৬২ সালের চীন যুদ্ধে একা লড়াই করে পরম বীর চক্র পাওয়া মেজর ধন সিং থাপার নামে।
মথুরা ক্যান্টনমেন্টে নিউ হর্ন লাইন এখন আবদুল হামিদ লাইনস ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করে পরম বীর চক্রপ্রাপ্ত কোম্পানি কোয়ার্টার মাস্টার হাভিলদার আবদুল হামিদের স্মৃতিতে।জয়পুর ক্যান্টনমেন্টে কুইন্স লাইন রোড হয়েছে সুন্দর সিং মার্গ। বরেলি ক্যান্টনমেন্টে নিউ বার্ডউড লাইন এখন থিমায়া কলোনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রথম ভারতীয় প্রধান জেনারেল কে এম কারিয়াপ্পার পরবর্তী প্রধান জেনারেল কে এস থিমায়ার নামে।
মহু ক্যান্টনমেন্টে ম্যালকম লাইন হয়েছে পীরু সিং লাইন ১৯৪৮-৪৯ সালের কাশ্মীর যুদ্ধে বীরত্বের জন্য মহাবীর চক্রপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন পীরু সিংের সম্মানে। দেহরাদুনের ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে কলিন্স ব্লক হয়েছে নুব্রা ব্লক এবং কিংসওয়ে ব্লক হয়েছে কার্গিল ব্লক।এই উদ্যোগকে অনেকে দেখছেন দেশের স্বাধীনতার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে।
সেনাবাহিনী বলছে, এতে ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে এবং সৈনিকদের মধ্যে জাতীয় গর্ব ও পরিচয়ের অনুভূতি আরও মজবুত হবে। যেসব স্থানে সেনারা থাকেন, প্রশিক্ষণ নেন, খেলাধুলা করেন সেখানে প্রতিদিন তাঁদের চোখে পড়বে নিজের দেশের বীরদের নাম। এটা শুধু নাম বদল নয়, একটা সাংস্কৃতিক ও মানসিক পরিবর্তনের শুরু।




















