তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এবার চরম আকার ধারণ করল। ইরানের এলিট ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) সদর দফতর সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দিল মার্কিন সেনা। সোমবার আমেরিকার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই হামলার কথা ঘোষণা করে জানানো হয়েছে, এই স্ট্রাইকের মাধ্যমে তারা “সাপের মাথা কেটে ফেলেছে”।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের এই যৌথ অভিযানের জেরে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। মার্কিন সেনার দাবি, এই ভয়াবহ হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং আইআরজিসি প্রধান মহম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সরকারি ভবনগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কী বলছে মার্কিন সেন্টকম (Centcom)?
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, “গত ৪৭ বছরে ১,০০০-এরও বেশি আমেরিকানকে হত্যা করেছে ইরানের আইআরজিসি (IRGC)। গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশাল হামলায় সেই সাপের মাথা কেটে ফেলা হয়েছে।” মার্কিন সেনার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, “আমেরিকার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে, এবং আজ থেকে আইআরজিসি-র আর কোনো সদর দপ্তর নেই।” সেন্টকম একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি ফ্রিগেট থেকে ছোঁড়া মিসাইল এক নিমেষে আইআরজিসি সদর দফতরের বহুতলগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
অপারেশন এপিক ফিউরি (Operation Epic Fury) US Israel strike Iran IRGC headquarters
মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি ফ্যাক্ট শিট অনুযায়ী, শনিবার থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র অধীনে ইরানের ১,০০০-এরও বেশি নিশানায় হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি-র জয়েন্ট হেডকোয়ার্টার্স ছাড়াও এই হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে- কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের সদর দফতর, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ও ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইট, ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজ ও সাবমেরিন, অ্যান্টি-শিপ মিসাইল ইনস্টলেশন এবং সামরিক যোগাযোগের পরিকাঠামো৷
ছড়িয়ে পড়ছে যুদ্ধের আঁচ
এই সংঘাত এখন আর ইরানের সীমানার মধ্যে আটকে নেই। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থে তেহরানের আঘাত এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে ইজরায়েলের হামলার পর, গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন পুরোদস্তুর যুদ্ধ চলছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় এখনও পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানও বসে নেই। পালটা প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইজরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মিসাইল হামলা চালিয়েছে তারা। এই পালটা হামলায় ৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, যা এই সংঘাতে আমেরিকার প্রথম নিশ্চিত প্রাণহানি। ইজরায়েলের উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, বেইট শেমেশের একটি সিনাগগ-সহ একাধিক জায়গায় মিসাইল আছড়ে পড়েছে। সেখানে ৯ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ইজরায়েলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১, এবং এখনও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইজরায়েলের ওপর হামলার দায় স্বীকার করেছে, যার জবাবে ইজরায়েল বিমান হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ আঞ্চলিক আক্রমণ প্রতিহত করতে মার্কিন বাহিনীকে সমর্থনের প্রস্তাব দিয়েছে।
আমেরিকা ফার্স্ট (America First) নীতি নিয়ে এবং দীর্ঘস্থায়ী বিদেশি যুদ্ধ এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য, ইরানের ওপর এই আক্রমণ সামরিক শক্তির এক অভূতপূর্ব ও চমকপ্রদ প্রদর্শন হিসেবেই দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।



















