বিয়ের ফাঁদে ১৮ লাখ খোয়ালেন ৪২ বছরের কুমারী!

মুম্বই: ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে (Matrimonial Fraud) পাত্র খুঁজতে গিয়ে খোয়া গেল প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার প্রতারক। অভিযোগ, নিজেকে প্রভাবশালী এবং আইপিএস অফিসারের ছেলে বলে পরিচয় ...

By Sandipa Sil

Published:

Follow Us
mumbai-matrimonial-fraud-woman-loses-18-lakh-marriage-scam

মুম্বই: ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে (Matrimonial Fraud) পাত্র খুঁজতে গিয়ে খোয়া গেল প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার প্রতারক। অভিযোগ, নিজেকে প্রভাবশালী এবং আইপিএস অফিসারের ছেলে বলে পরিচয় দিয়েছিল প্রতারক। সেই টোপ গিলেই প্রতারণার শিকার হন ৪২ বছরের মহিলা।

বয়স পেরিয়েছে দুই কুড়ি। ৪২ বছরেও তিনি কুমারী। দীর্ঘদিনের চেষ্টাতেও বিয়ে হয়নি মায়ানগরী মুম্বইয়ের বাসিন্দা গ্রাফিক্স ডিজাইনারের। রং-ছবির সৃজনশীলতা নিয়ে কারবার। জীবনটাও রঙিন করতে চেয়েছিলেন। বিয়ের পাত্র খুঁজতে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে। সেখান থেকেই বিপত্তি।

   

আরও পড়ুন

ধর্মনিরপেক্ষতার স্বার্থে দীপক কুমার হলেন দীপক মহম্মদ

গেরুয়া রাজ্যে গণধর্ষণের শিকার নাবালিকা! নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে নাভঘর থানার পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত নিজেকে প্রভাবশালী এনজিও চেয়ারম্যান এবং আইপিএস অফিসারের ছেলে বলে পরিচয় দিয়েছিল।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই ওই মহিলা একটি পরিচিত ম্যাট্রিমোনিয়াল ওয়েবসাইটে নিজের প্রোফাইল রেজিস্টার করেছিলেন। বয়স পেরিয়েছে দুই কুড়ি, কিন্তু বিয়ে হয়নি। একাকীত্ব আর সমাজের চাপ—দু’য়ের মধ্যেই জীবন কাটছিল তাঁর। এমন সময় ‘বিরাজ বালাসাহেব ভোঁসালে’ নামে একটি প্রোফাইল থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে। প্রোফাইল অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি পুনের বাসিন্দা।

আরও পড়ুন

১৬৩৮ টি বৈধ ক্রেডিট কার্ড নিয়ে গিনেসবুকে হায়দরাবাদের মনীশ

বাঙালি পরিচালিত বিজেপি নিয়ন্ত্রিত গ্রাম পঞ্চায়েত দেশের সেরা

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম থেকেই নিজেকে অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরেন অভিযুক্ত। তিনি দাবি করেন, তাঁর বাবা একজন আইপিএস অফিসার, মা একজন ফিজিওথেরাপিস্ট। নিজে নাকি পুনে-ভিত্তিক একটি এনজিওর চেয়ারম্যান। শুধু তাই নয়, সরকারি প্রকল্প, সিএসআর ফান্ড এবং আবাসন যোজনার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন অভিযুক্ত।

বিশ্বাস অর্জনের পর ধীরে ধীরে আর্থিক সাহায্যের কথা তুলতে শুরু করে সে। কখনও এনজিওর কাজের জন্য, কখনও সরকারি প্রকল্পে টাকা আটকে থাকার অজুহাতে, আবার কখনও বিয়ের প্রস্তুতির কথা বলে মহিলার কাছ থেকে টাকা নেয় অভিযুক্ত। পুলিশ জানায়, বিভিন্ন সময়ে ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার এবং অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে মোট ১৭ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

আরও পড়ুন :রাজধানীতে নিখোঁজ-রহস্য! শত শত লোকের খোঁজ মিলছে না দিল্লিতে

মহিলার অভিযোগ, বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার কথা বললেও প্রতিবারই কোনও না কোনও অজুহাতে তা পিছিয়ে দিত অভিযুক্ত। সন্দেহ হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে উল্টে হুমকি দিতে শুরু করে সে। তখনই বিষয়টি বুঝে নাভঘর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই গ্রাফিক্স ডিজাইনার।

অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্তের দাবি করা পরিচয় সম্পূর্ণ ভুয়ো। তাঁর বাবা আইপিএস অফিসার নন, এনজিও চেয়ারম্যান হওয়ার দাবিও মিথ্যা।

পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে একাকী মহিলা ও পুরুষদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের প্রতারকরা সহজেই বিশ্বাস অর্জন করে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sandipa Sil

আইনের ছাত্রী। শিক্ষানবীশ আইনজীবী। সাংবাদিকের সঙ্গে সংসারের সূত্রে সংবাদে আগ্রহ। কলকাতা24x7-এর মাধ্যমে পথ চলার শুরু।

Follow on Google