‘মমতার পয়েন্টে সহমত বিচারপতিরা’, সুপ্রিম কোর্টের বাইরে কী কী দাবি কল্যাণের?

নয়াদিল্লি: বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ১ নম্বর এজলাসে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘SIR’ মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে তৈরি হয় এক বেনজির পরিস্থিতি। শুনানি চলাকালীনই ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
west-bengal-voter-list-sir-supreme-court-hearing

নয়াদিল্লি: বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ১ নম্বর এজলাসে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘SIR’ মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে তৈরি হয় এক বেনজির পরিস্থিতি। শুনানি চলাকালীনই সামনের সারিতে চলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতিদের অনুমতি নিয়ে তিনি নিজেই নিজের মামলার সওয়াল শুরু করেন। সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে মমতা বলেন, “আমি কমিশনকে ছয়টি চিঠি লিখেছিলাম, কিন্তু কোনও উত্তর পাইনি। আমি আমার দলের জন্য লড়ছি না, লড়ছি সাধারণ মানুষের জন্য। আজ বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদছে।”

‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ বলে কটাক্ষ

এদিন এজলাসে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে আসলে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিয়ের পর মহিলাদের পদবি বদল হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা, অথচ তাকেই কেন ‘নামে অমিল’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে? ‘খান’ পদবি ‘খাঁ’ হয়ে যাওয়ার মতো করণিক ভুলের জন্য কেন মানুষকে দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে? কমিশনকে কার্যত ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ বলে কটাক্ষ করে তিনি জানান, প্রশাসনিক ও গণতান্ত্রিক নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কাজ করছে তারা।

   

কমিশনের পাল্টা যুক্তি Mamata Banerjee SIR Case

কমিশনের পক্ষে আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী দাবি করেন, রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত কর্মী দিয়ে তাঁদের সহায়তা করছে না। ‘ক্লাস টু’ অফিসার চাওয়া হলেও মাত্র ৮০ জন ক্লার্ক দেওয়া হয়েছে। ফলে নিরুপায় হয়েই তাঁদের ‘মাইক্রো অবজার্ভার’ নিয়োগ করতে হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ

উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ মমতার দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে বলে দাবি করেছেন সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালত এদিন নির্দেশ দেয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিশনকে নোটিশ জারি করা হয়েছে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের জবাব দাখিল করতে হবে। নামের বানানে সামান্য অসংগতির জন্য যেন কাউকে হয়রান না করা হয়। শুধুমাত্র মৃত বা অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নামই বাদ দেওয়া যাবে। রাজ্য সরকারকে এমন ‘গ্রুপ-বি’ অফিসারদের তালিকা জমা দিতে হবে যারা বাংলা ভাষা বোঝেন। প্রায় ৭০-৭৫ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি থাকায়, দরকারে সময়সীমা বাড়ানোর কথা চিন্তা করছে আদালত।

কী বললেন কল্যাণ

এদিন শুনানি শেষে আদালত কক্ষের বাইরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আদালতকে বুঝিয়েছেন যে ডিলিশন হচ্ছে কিন্তু ইনক্লুশন হচ্ছে না। ইআরও-দের ক্ষমতা কেড়ে বহিরাগত মাইক্রো অবজার্ভারদের দিয়ে কাজ করানো অনৈতিক।” আগামী সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

কল্যাণ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশিরভাগ পয়েন্টের সঙ্গেই বিচারপতিরা কার্যত সহমত পোষণ করেছেন। আদালতের বেঞ্চ মৌখিকভাবে পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, ছোটখাটো ভুলগুলির জন্য যেন সাধারণ মানুষকে ডেকে হয়রান না করা হয়। শুধুমাত্র মৃত এবং অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নামই যেন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।”

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google