কলকাতা: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তার আগেই তৃণমূলের অন্দরে প্রার্থী তালিকা নিয়ে শুরু হয়েছে জোরদার হিসেব-নিকেশ। সবথেকে বড় চমক আসতে পারে দক্ষিণ কলকাতার হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র বালিগঞ্জে। রাজনৈতিক মহলে প্রবল জল্পনা, বালিগঞ্জের বর্তমান বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয়কে সরিয়ে সেখানে প্রার্থী করা হতে পারে দলের ‘ফার্স্ট বয়’ তথা বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে।
কেন বালিগঞ্জে শোভনদেব?
খড়দা উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ের পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। ৮২ বছর বয়সেও তিনি যে কতটা চনমনে, তা মনে করিয়ে দিয়ে তাঁর পুত্র সায়নদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বাবা এখনও নিয়মিত বক্সিং অনুশীলন করেন। তাঁর মানসিক ও শারীরিক জোর অটুট।” দক্ষিণ কলকাতার ভূমিপুত্র শোভনদেবের সঙ্গে বালিগঞ্জের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে। প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে এই এলাকায় তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা ভোট বৈতরণী পার করতে সাহায্য করবে বলেই মনে করছে আলিমুদ্দিনের বদলে নবান্ন।
বাবুল সুপ্রিয়কে ঘিরে সংশয় Ballygunge candidate speculation TMC
অন্যদিকে, বালিগঞ্জের বর্তমান বিধায়ক তথা মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে নিয়ে দলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ২০২২-এর উপনির্বাচনে তিনি জিতলেও জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩০ হাজার, যা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের রেকর্ড মার্জিনের তুলনায় অনেকটাই কম। এমনকি কয়েকটি ওয়ার্ডে বাম প্রার্থীরা এগিয়ে থাকায় অস্বস্তি বেড়েছে শাসক শিবিরের। বাবুলের ‘দলবদলু’ ভাবমূর্তি নিয়ে নিচুতলার কর্মীদের একাংশের অসন্তোষও এই রদবদলের সম্ভাবনার পিছনে বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিজ্ঞতা বনাম গ্ল্যামার
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এর আগে বারুইপুর, রাসবিহারী ও ভবানীপুর থেকে একাধিকবার জয়ী হয়েছেন। দলের সংকটের সময়ে তিনি বারংবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তাঁকে বালিগঞ্জে আনা হলে দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূলের সংগঠন আরও মজবুত হবে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। অন্যদিকে, বাবুলকে সরিয়ে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা কেন্দ্রে পাঠানো হতে পারে কি না, তা নিয়েও চলছে জল্পনা।



















