নয়াদিল্লি: শেষরক্ষা হল না। মরণব্যাধি ক্যানসারের সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর হার মানলেন ভারতীয় ক্রিকেটার রিঙ্কু সিংহের বাবা খাচান্দ্র সিংহ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীনই এই শোকসংবাদ আছড়ে পড়ল ভারতীয় শিবিরে। গ্রেটার নয়ডার যথার্থ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।
লড়াই থামল হাসপাতালের বিছানায়
হাসপাতাল সূত্রে খবর, খাচান্দ্র সিংহ চতুর্থ পর্যায়ের (স্টেজ ৪) লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। গত কয়েক দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। চিকিৎসকরা তাঁকে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর সাপোর্ট এবং ‘কন্টিনিউয়াস রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’ (CRRT)-তে রেখেছিলেন। সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বৃহস্পতিবার তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয় এবং তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বাবার জন্য ছুটে গিয়েছিলেন রিঙ্কু Rinku Singh father death
জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের ঠিক আগেই বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পান রিঙ্কু। খবর পাওয়ামাত্রই বিসিসিআই-এর বিশেষ অনুমতি নিয়ে চেন্নাইয়ের শিবির ছেড়ে গত মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। বাবাকে দেখে বুধবারই আবার দলে ফিরে আসেন পেশাদার এই ক্রিকেটার। বৃহস্পতিবারের ম্যাচে তিনি প্রথম একাদশে না থাকলেও, ফিল্ডিং করতে নেমেছিলেন পরিবর্ত খেলোয়াড় হিসেবে। তাঁর এই মানসিক দৃঢ়তা সতীর্থদেরও অবাক করেছে।
বিশ্বকাপে অনিশ্চয়তা
বাবার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ রিঙ্কু বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। শোকাতুর পরিবারকে সময় দিতে তিনি পুনরায় বাড়ি ফিরে যাবেন কি না, সে বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে এই কঠিন সময়ে বোর্ড এবং টিম ম্যানেজমেন্ট যে পুরোপুরি রিঙ্কুর পাশে আছে, তা বলাই বাহুল্য।
রিঙ্কু সিংহের এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিতে ক্রীড়ামহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অতি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে আজ তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র; আর এই যাত্রায় তাঁর বাবার সংগ্রাম ও অবদান বারবার উঠে এসেছে রিঙ্কুর কথায়। সেই লড়াইয়ের কাণ্ডারিকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন এই তরুণ ব্যাটার।




















