বাংলাদেশের ‘প্রধানমন্ত্রী’ শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় (Sajeeb Wazed Joy)একটা বিস্ফোরক ভিডিয়ো বার্তায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, “আমার মা নিজেই ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আমাদের সরকার সব হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য একটা বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করেছিল পুলিশের হত্যা, পুলিশের খুন, সাধারণ নাগরিকদের হত্যা, সব দলের কর্মীদের হত্যা দল নির্বিশেষে।
আমাদের সরকার কাউকে কোনও ছাড় দেয়নি। আমরা ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু এই সরকার অবিলম্বে একটা অধ্যাদেশ জারি করে সব পুলিশ অফিসার, আওয়ামী লীগ কর্মীদের হত্যাকারীদের ইমিউনিটি দিয়েছে, কারণ এখন তারা এসবকে ‘মব জাস্টিস’ বলে দোষারোপ করছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছি।”জয়ের এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জার্সিতে আইএসআইয়ের লোগো! জেনে নিন কেন?
তিনি অভিযোগ করেছেন যে ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে পুলিশ সদস্য, আওয়ামী লীগ কর্মী, এমনকি সংখ্যালঘুদের উপর তার জন্য কোনও তদন্ত হচ্ছে না। বরং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘জুলাই উত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করে অংশগ্রহণকারীদের ইমিউনিটি দিয়েছে।
এতে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের মতো অপরাধের জন্য মামলা প্রত্যাহার হচ্ছে এবং নতুন মামলা দায়ের করা যাবে না। জয় বলছেন, এটা একপেশে ন্যায়বিচার আওয়ামী লীগের সময়ে যে কোনও ভুল হয়েছে তা স্বীকার করে তদন্ত করা হয়েছিল, কিন্তু এখন অন্যপক্ষের অপরাধকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।এই অধ্যাদেশ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবি, এটা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য, যাতে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এতে পুলিশের ৪৪ জন সদস্য, আওয়ামী লীগ কর্মী এবং সংখ্যালঘুদের হত্যাকারীরা ছাড় পেয়ে যাবে। জয়ের কথায়, এই সরকার ‘মব জাস্টিস’-এর নামে দায় এড়াচ্ছে।
তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গঠিত বিচার বিভাগীয় কমিটির উল্লেখ করে বলেছেন যে তারা সব পক্ষের হত্যাকাণ্ড তদন্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু এখন সেই প্রক্রিয়া বন্ধ।জয়ের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের পুরনো অবস্থানও ফুটে উঠেছে। তিনি বলেছেন, ২০২৪-এর আন্দোলনে ভুল হয়েছে, কিন্তু মা কখনও হত্যার নির্দেশ দেননি।
যদি দিতেন, তাহলে তিনি ক্ষমতায় থাকতেন। এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তিনি অভিযুক্ত করছেন যে তারা একপেশে বিচার করছে এবং নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে যাতে সত্যিকারের নিরপেক্ষ নির্বাচন না হয়। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এখনও হামলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ।




















