ঢাকা: সরকারি জমি বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির দায়ে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড দিল ঢাকার একটি বিশেষ আদালত। সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম দুটি পৃথক মামলায় এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার ভাগ্নি তথা ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ পরিবারের একাধিক সদস্য।
১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
আদালত সূত্র অনুযায়ী, ‘রাজউক পূর্বাচল নিউ টাউন প্রজেক্ট’-এ প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে প্রতিটি মামলায় ৫ বছর করে মোট ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে দুটি মামলায় মোট ৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার ভাগ্নে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) এবং অন্য এক ভাগ্নি আজমিনা সিদ্দিককেও এই দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অপরাধে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
অভিযোগ ও বিচার প্রক্রিয়া Sheikh Hasina sentenced
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বাচল প্রকল্পে ১০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দে নজিরবিহীন অনিয়ম করা হয়েছিল। যথাযথ নিয়ম না মেনেই ক্ষমতার প্রভাবে এই জমি বরাদ্দ করা হয়। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ বিচারক এই রায় পাঠ করেন। সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পলাতক শেখ হাসিনা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই (In Absentia) এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বেও একাধিক মামলায় তাঁকে ‘পলাতক’ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিনের রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, রাজউকের প্রাক্তন সদস্য মোহাম্মদ খুরশিদ আলম একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আবহে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর এই সাজা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ঢাকার এই রায়ের পর ব্রিটেনের সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।




















