নয়াদিল্লি: উত্তপ্ত রাজধানী। সোমবার সকালে বিশাল পুলিশ বাহিনী দিল্লির বঙ্গভবন ঘিরে ফেলতেই চড়তে থাকে উত্তেজনার পারদ। খবর পাওয়া মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮১ নম্বর সাউথ অ্যাভিনিউতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে ছিলেন তিনি। খবর পাওয়া মাত্রই সাজপোশাকের তোয়াক্কা না করে ‘ঘরের শাড়ি’ পরেই অভিষেককে নিয়ে বঙ্গভবনে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের অতিসক্রিয়তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
কী ঘটেছিল?
রাজ্যে ‘SIR’ আতঙ্কে প্রাণ হারানো বা আত্মঘাতী হওয়া ১০০-রও বেশি মানুষের পরিবারকে দিল্লি নিয়ে এসেছে তৃণমূল। তাঁদের রাখা হয়েছে বঙ্গভবনে। সোমবার বিকেল ৪টেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই পরিবারগুলির কয়েকজনের নির্বাচন কমিশনের দফতরে যাওয়ার কথা। কিন্তু সকাল থেকেই অতর্কিতে বঙ্গভবন চত্বর কার্যত দুর্গে পরিণত করে দিল্লি পুলিশ। এই খবর চাউর হতেই রণংদেহী মেজাজে ধরা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
অমিত শাহকে নিশানা mamata banerjee slams amit shah
সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী সাফ বলেন, “অমিত শাহ কলকাতায় গেলে আমরা রেড কার্পেটে স্বাগত জানাই, আর আমরা দিল্লিতে এলে আমাদের জন্য ব্ল্যাক কার্পেট পাতা হয়? আমি দিল্লি আসি না। জরুরি মিটিং আছে বলে এসেছি। যতদিন এই সরকার আছে, ততদিন এখানে আসতে আমার ভালো লাগে না।” মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, বহু বছর তিনি দিল্লিতে সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন, কিন্তু এমন পুলিশি অতিসক্রিয়তা আগে কখনও দেখেননি।
‘আমাদের চ্যালেঞ্জ করবেন না’
বঙ্গভবনের ভেতরে গিয়ে আতঙ্কিত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করেন মমতা ও অভিষেক। পরে বাইরে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমাদের মাসেল পাওয়ার দেখাবেন না। চ্যালেঞ্জ করবেন না। আমরা কিন্তু ‘ডেঞ্জারাস’ হয়ে উঠতে পারি। কেউ লড়াই না করলেও এদেশে আমি একাই লড়াই করব।” তিনি আরও যোগ করেন, “দিল্লির লোকেরা জানে না বাংলার মানুষের ওপর কী অত্যাচার হচ্ছে। ওরা এখানে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে এসেছে, ওদের ভয় দেখাবেন না।”
মঙ্গলবার বড় কর্মসূচি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, মঙ্গলবার বিকেল ৩টে নাগাদ এই ১০০টি পরিবারকে নিয়ে তিনি দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করবেন। তবে তার আগে বঙ্গভবন ঘিরে রাখা নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, “আমি দিল্লিতে এলেই এরা ভয় পেয়ে যায়। দিল্লিতে গরিব মানুষের কোনও জায়গা নেই, এখানে জমিদারি চলছে।”
বিকেল ৪টেয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের এই প্রতিনিধি দলের বৈঠক হওয়ার কথা। তার আগেই বঙ্গভবনের এই পুলিশি ঘেরাওকে কেন্দ্র করে দিল্লি ও বাংলার শাসক শিবিরের সংঘাত যে চরমে পৌঁছল, তা বলাই বাহুল্য।




















