নয়াদিল্লি: আজ ১ ফেব্রুয়ারী পেশ হল কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget)। বাজেট পেশ হতেই সরব হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করে তারা মন্তব্য করেছে যে এই বাজেটে বাংলাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। মমতা, সুদীপ বন্দোপাধ্যায় থেকে সৌগত রায় প্রত্যেকেই একই সুরে বলেছেন বাংলার বঞ্চনার কথা। কিন্তু সত্যি কি বঞ্চিত হয়েছে বাংলা। এবার এই নিয়েই এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করলেন বিজেপি নেতা এবং আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি বলেছেন বাংলাকে বেশ কিছু উপহার দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে।
তরুণজ্যোতি তার পোস্টে রীতিমত উদাহরণ দিয়ে বলেছেন বাজেটে কলকাতার পানিহাটিতে অবস্থিত NIPER কলকাতা সহ ৭টি NIPER-এর আপগ্রেডেশনের ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বায়োফার্মা খাতে গবেষণা ও শিক্ষার উন্নয়ন হবে, যা কলকাতাকে ফার্মাসিউটিক্যাল হাব হিসেবে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়া জুটের পাট শিল্পের জন্য নতুন স্কিম ঘোষণা করা হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের জুট শিল্পকে নতুন করে চাঙ্গা করবে।
আরো পড়ুন: কেন্দ্রীয় বাজেটে উপেক্ষিত বাংলা, ক্ষোভ উগরে দিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
জাতীয় ফাইবার স্কিমের অধীনে জুটের স্বনির্ভরতা, আধুনিকীকরণ এবং কৃষকদের আয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।বিজেপি নেতা আরও বলেছেন, ২০০টি লিগ্যাসি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টার পুনরুজ্জীবিত করার স্কিমে পশ্চিমবঙ্গ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। রাজ্যের পুরনো শিল্পকেন্দ্রগুলোতে পরিকাঠামো ও প্রযুক্তি আপগ্রেড করে খরচ কমানো এবং দক্ষতা বাড়ানো হবে।
এছাড়া ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর (ইস্ট-ওয়েস্ট ফ্রেইট করিডোর) ঘোষণা করা হয়েছে, যা লজিস্টিক্স, বাণিজ্য ও শিল্পকে বাড়তি গতি দেবে।বারাণসী-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড রেল করিডোর (বুলেট ট্রেন) ঘোষণা করা হয়েছে, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভারতের যোগাযোগকে বিপ্লবী করে তুলবে।
এছাড়া বারাণসী-নতুন দিল্লি করিডোরও ঘোষণা হয়েছে, ফলে শিলিগুড়ি দিল্লির সঙ্গে হাই-স্পিড রেলে যুক্ত হবে। পাঁচটি রাজ্যকে মেডিকেল টুরিজম হাব হিসেবে গড়ে তোলার স্কিমে কলকাতার প্রাইভেট হাসপাতালগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। প্রতিটি জেলায় একটি করে গার্লস হোস্টেল, বিশেষ করে STEM সাবজেক্টে ফোকাস কলকাতা STEM রিসার্চের হাব হিসেবে লাভবান হবে।
এছাড়া দুর্গাপুরে ইন্টিগ্রেটেড ইস্ট কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোরের উন্নয়ন, পূর্ব ভারতে ৫টি টুরিজম ডেস্টিনেশন এবং ৪,০০০ ই-বাসের প্রস্তাব রয়েছে। তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেছেন, “এই বাজেট বাংলাকে বঞ্চিত করেনি, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগের নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। তরুণ জ্যোতি তার এই পোস্টে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যে বাংলা কোনোমতেই বঞ্চিত নয় এবং তৃণমূল স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে বাজেট নিয়ে মিথ্যাচার করছে।
এই বিতর্ক দেখিয়ে দিচ্ছে যে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাজেটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াই তীব্র হয়ে উঠেছে। তৃণমূল বঞ্চনার অভিযোগ তুললেও বিজেপি বলছে, বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য অনেক কিছু রয়েছে যা রাজ্যের অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘোষণাগুলো কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং রাজ্যের মানুষ কতটা উপকৃত হন।




















