আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের আজ চারদিন পেরিয়ে গেলেও ক্ষত আজও গভীর। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রায় ৩০ জন মানুষের মৃত্যু রাজ্যবাসীর মনে তীব্র শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। খাস কলকাতার অদূরে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও ঘটনার পর দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যেতে পারেননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও দমকলমন্ত্রী যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে।
কংগ্রেসের (Congress) তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্যে ইডি রেড হলে মুখ্যমন্ত্রী তৎপরতার সঙ্গে পৌঁছে যান, আবার আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকা মেসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও দমকলমন্ত্রী সময় বের করেন, অথচ এত বড় একটি মানবিক বিপর্যয়ের পরেও ঘটনাস্থলে তাঁদের অনুপস্থিতি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয়। এই উদাসীনতাই রাজ্য সরকারের প্রকৃত মুখ তুলে ধরেছে বলে দাবি করেছে যুব কংগ্রেস।
যুব কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, বর্তমান দমকলমন্ত্রীর আমলেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। দমকল বিভাগের নিয়মিত পরিকাঠামোগত যাচাই, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং নিরাপত্তা বিধি কার্যকরভাবে রূপায়ণের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, দমকল বিভাগ আগুন নেভাতে পৌঁছাতে দেরি করছে, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই কিংবা কর্মীদের প্রশিক্ষণ অপ্রতুল যার ফল ভোগ করছেন সাধারণ মানুষ।এই পরিস্থিতিতে দমকল বিভাগের চূড়ান্ত ব্যর্থতার দায় নিয়ে দমকলমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে পথে নামল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ যুব কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ যুব কংগ্রেস লিডারশিপ কমিটির সদস্য ও সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সদস্য সৌরভ প্রসাদের নেতৃত্বে শিয়ালদহ জগৎ সিনেমা মোড় থেকে মিত্র ইনস্টিটিউশন মোড় পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত হয়। মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও মিত্র ইনস্টিটিউশনের সামনে শিয়ালদহ-কলেজস্ট্রিট সংলগ্ন মোড়ে পৌঁছে অবরোধে বসেন আন্দোলনকারীরা।এই কর্মসূচিতে সৌরভ প্রসাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন যুব কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ দেবজ্যোতি দাস, সাইফ আজাদ, রেজওয়ানুর রহমান, অমিত সাহা, শাহানাওয়াজ মল্লিক সহ আরও অনেকে।




















