মুসলিমকে বিয়ে করেছিলেন ভালোবেসে। নাম নিয়েছিলেন রানী বেগম (Rani Begum)। ৩০ বছর ঘর করে হল স্বপ্নভঙ্গ। এবার আনুষ্ঠানিক ভাবে রীতিমত পুজো করে ফের হিন্দু ধর্মে ফিরলেন ছতরপুরের প্রাক্তন কাউন্সিলার। হিন্দু ধর্মে ফিরে রানী বেগম হলেন শীলা যাদব।মধ্যপ্রদেশের ছতরপুরে এই ধর্মান্তরণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংগঠনের কর্মী, পুরোহিত এবং স্থানীয় নেতারা।
রানি বেগম মূলত ছতরপুর জেলার ঈশানগর থানার কুররা গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৯৫ সালে তিনি এক মুসলিম পুরুষের সাথে বিয়ে করেন এবং ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম গ্রহণ করেন। বিয়ের পর নাম হয় রানি বেগম। পরবর্তীকালে তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। কিন্তু ৩০ বছর ইসলাম ধর্মের রীতিনীতি মেনে চলার পর তাঁর মনে ইসলাম এবং তার রীতিনীতি সম্পর্কে জমা হয় ক্ষোভ। সম্প্রতি ছতরপুরের এক মন্দিরে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি সনাতন ধর্মে ফিরে আসেন। কর্মকাণ্ডী ব্রাহ্মণরা পূজা-আর্চনা করে তাঁকে পুনরায় হিন্দু ধর্মে দীক্ষা দেন। নতুন নাম রাখা হয় শীলা যাদব।
ঋতুকালীন স্বাস্থ্য মৌলিক অধিকার! স্কুলপড়ুয়াদের ফ্রি প্যাড দেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
অনুষ্ঠানে শীলা যাদব বলেন, তিনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতাই হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন। কারও কোনো চাপ ছিল না। ইসলামের রীতিনীতিতে তার দম বন্ধ হয়ে আসছিল এ কোথাও জানিয়েছেন তিনি। শিলা যাদব বলেন সনাতন ধর্মের স্বাধীনতা, সহনশীলতা এবং আধ্যাত্মিকতা তাকে ফের হিন্দু ধর্মে টেনেছে। তিনি আরও বলেন যে এই সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত, পরিবারের সদস্যরাও সমর্থন করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হিন্দু সংগঠনের নেতারা বলেছেন এই জয় সনাতন ধর্মের।
এই ঘটনা মধ্যপ্রদেশে ‘ঘর ওয়াপসি’ আন্দোলনকে নতুন গতি দিয়েছে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যে এর আগেও এই ধরণের ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে। শুধু ইসলাম নয় অন্য ধর্ম থেকেও বহু মানুষ হিন্দু ধর্মে ফিরে এসেছেন। যেখানে হিন্দু সংগঠনগুলো সক্রিয়। ছতরপুরে হিন্দু রাষ্ট্র অভিযানের কর্মীরা এই অনুষ্ঠানে সহায়তা করেছেন। স্থানীয় বিজেপি নেতারা বলছেন, এটা দেখায় যে সনাতন ধর্মের আকর্ষণ অপরিসীম।
অন্যদিকে বিরোধী শিবির এই ইস্যুতে মুখ খুলেছে এবং মন্তব্য করেছে যে বিজেপি তার রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাইছে। যারা অন্য ধর্মকে বিদায় জানিয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করছেন তাদের উপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে বিজেপি এমনটাই অভিযোগ করেছে তারা। সমালোচনা করতে গিয়ে বিরোধীরা আরও বলেছে যে বিজেপি তাদের মেরুকরণের খেলায় মেতে উঠেছে এবং সারা দেশেই মন্দির মসজিদের রাজনীতি শুরু করেছে। এই মন্তব্যের পাল্টা বিজেপি নেতৃত্ব বলেছে যে শীলা যাদবের এই পদক্ষেপ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা এবং তার এই ধর্ম পরিবর্তন একান্তই তার ব্যাক্তিগত মতামত।




















