কলকাতা: নতুন বছরের শুরুতেই রাজ্যে নিপা ভাইরাসের হদিশ মেলায় রাজ্যজুড়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। উত্তর ২৪ পরগনার দুই নার্স এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে ভয়। তবে এই পরিস্থিতির মাঝেই কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। হু জানিয়েছে, ভারতে নিপা সংক্রমণের ঝুঁকি এই মুহূর্তে ‘মডারেট’ বা মাঝারি মানের। নজরদারি প্রয়োজন ঠিকই, তবে এখনই আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বা বাণিজ্যে কোনও বিধিনিষেধ জারির প্রয়োজন নেই।
বাংলায় আক্রান্ত দুই স্বাস্থ্যকর্মী
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালের দুই কর্মীর শরীরে প্রথম নিপার উপসর্গ দেখা দেয়। আক্রান্তদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন মহিলা নার্স। পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (NIV) গত ১৩ জানুয়ারি তাঁদের শরীরে নিপা সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। হু-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ওই পুরুষ নার্স ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগোলেও, মহিলা নার্সের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই দুই রোগীর সংস্পর্শে আসা প্রত্যেকের পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাঁদের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। রাজ্যে ১০ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ২ জনের শরীরে এই ভাইরাস মেলায় এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের সক্ষমতায় ভরসা ‘হু’-এর WHO risk assessment of Nipah virus
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিপা মোকাবিলায় ভারতের প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালী। যদিও হংকং, থাইল্যান্ড বা নেপালের মতো দেশগুলি কোভিড মোকাবিলার ধাঁচে কড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালাচ্ছে, তবে ভারতে মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে গণ-সংক্রমণের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
নিপা সংক্রমণ: ইতিহাস ও সতর্কতা
ভারতে নিপা ভাইরাস নতুন কিছু নয়। এর আগে কেরালায় একাধিকবার এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। বাংলায় এটি তৃতীয়বারের সংক্রমণ। এর আগে ২০০১ এবং ২০০৭ সালে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নিপা হানা দিয়েছিল।
কী কী বিষয় জানা জরুরি-
- নিপা মূলত বাদুড়বাহিত ভাইরাস। বাদুড়ে খাওয়া ফল বা খেজুরের রস থেকে এটি মানুষের শরীরে ছড়ায়।
- জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও মস্তিষ্কে প্রদাহ (Encephalitis)-এর মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
- এটি কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো বাতাসে দ্রুত ছড়ায় না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি উদ্বেগের হলেও প্রশাসনের তৎপরতায় তা এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই ভুয়ো খবরে কান না দিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।




















