হিঙ্গলগঞ্জ: ফের চুরির অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ এর আগেও অবশ্য রাজ্যে শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে৷ এবার এক নজিরবিহীন চুরির অভিযোগে অস্বস্তিতে পড়ল তৃণমূল। খোদ সংসদের টাকায় গরিব রোগীদের জন্য বরাদ্দ আস্ত আ্যম্বুল্যান্স খোয়া গেল৷ ওই অ্যাম্বুলেন্স চুরি করে তার যন্ত্রাংশ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। তবে এখানে রয়েছে একটি টুইস্ট! এই অভিযোগ বিরোধী দলের নয়, বরং এই অভিযোগ জানিয়েছে খোদ শাসকদলের স্থানীয় কর্মীরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের পাটলীখানপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
সাংসদ তহবিলের অ্যাম্বুল্যান্স ‘হাওয়া’! MP fund ambulance stolen
অভিযোগের তির চকপাটলী অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি সেলিম ওরফে পিন্টু মোল্লার দিকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ প্রয়াত হাজি নুরুল ইসলামের সাংসদ তহবিল থেকে একটি অ্যাম্বুল্যান্স চকপাটলী স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছিল। মুমূর্ষু রোগী ও প্রসূতিদের অল্প খরচে পরিষেবার জন্য এটি ছিল গ্রামবাসীদের একমাত্র ভরসা।
তৃণমূল কর্মীদেরই দাবি, অ্যাম্বুল্যান্সটি খারাপ হয়ে যাওয়ায় মেরামতের নাম করে সেটিকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই সুযোগেই সেলিম মোল্লা ওই অ্যাম্বুল্যান্সটি চুরি করে তার কাঠামো ও বিভিন্ন দামি যন্ত্রাংশ আলাদা করে বাজারে বিক্রি করে দেন।
প্রশাসনের দ্বারস্থ শাসকদলের কর্মীরাই
নেতার এই ‘কীর্তি’তে হতবাক খোদ দলের কর্মীরা৷ অভিযুক্তকে শাস্তি দিতে গ্রামবাসী ও দলীয় কর্মীদের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি অভিযোগপত্র জেলাশাসকের কাছে জমা দেন। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী শামসুর আলি গাজী বলেন, “অঞ্চলের সভাপতি হয়ে পিন্টু মোল্লা এই অনৈতিক কাজ করেছেন। আগে গ্রামের মানুষ ১০০০ টাকায় পরিষেবা পেতেন, এখন বাইরে থেকে দ্বিগুণ টাকা খরচ করে গাড়ি আনতে হচ্ছে।” অনেক সময় অ্যাম্বুল্যান্স না পেয়ে রোগীকে টোটো বা অটোয় করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছে বলেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সেলিম মোল্লা অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করেন। তাঁর উত্থান দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে একদল মানুষ চক্রান্ত করে ফাঁসাতে চাইছে।
অন্যদিকে, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছে বিজেপি। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি পলাশ সরকার কটাক্ষ করে বলেন, “চোর-ডাকাতরাও এই তৃণমূল নেতাকে দেখে লজ্জিত হবে। প্রকল্পের টাকা চুরির কথা শুনেছিলাম, এখন অ্যাম্বুল্যান্সও বাদ যাচ্ছে না। পুলিশ কেন এখনও ওঁর টিকি ছুঁতে পারছে না? ছাব্বিশের ভোটে মানুষ এর জবাব দেবে।”
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আস্ত একটি সরকারি পরিষেবা প্রদানকারী গাড়ি উধাও হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।




















