মুম্বই: মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার৷ তাঁর অকাল প্রয়াণে ওলটপালট মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমীকরণ। এই কঠিন সময়ে দলের হাল ধরবেন কে? অজিত পাওয়ারের শূন্যস্থান পূরণ করতে তাঁর স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারের শরণাপন্ন হয়েছেন এনসিপি-র শীর্ষ নেতারা। বৃহস্পতিবার তাঁর বাসভবনে গিয়ে প্রফুল্ল প্যাটেল, সুনীল তটকরে এবং ছগন ভুজবলের মতো প্রবীণ নেতারা সুনেত্রার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি
সূত্রের খবর, শোকস্তব্ধ সুনেত্রা পাওয়ারকে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছেন দলের নেতারা। শুধু দলের রাশ ধরাই নয়, মহাযুতি জোটে অজিত পাওয়ারের জায়গায় সুনেত্রাকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করার জন্যও জোরালো দাবি উঠতে শুরু করেছে দলের অন্দরে। মহারাষ্ট্রের ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং অজিত পাওয়ারের ঘনিষ্ঠ অনুগামী নরহরি জিরওয়াল প্রকাশ্যে এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, “সমর্থকদের প্রত্যেকের ইচ্ছা সুনেত্রা বাহিনী (বৌদি) ক্যাবিনেটে আসুক। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই দাবিকে সমর্থন করি এবং দলের শীর্ষ স্তরে বিষয়টি উত্থাপন করব।”
বারামতী উপনির্বাচন: লড়াইয়ে কি জয় পাওয়ার? Next Maharashtra Deputy CM
অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে তাঁর কেন্দ্র বারামতীর আসন এখন ফাঁকা৷ উপনির্বাচন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। তৃণমূল স্তরের কর্মীদের দাবি, অজিত পাওয়ারের দুই ছেলে, পার্থ বা জয় পাওয়ারের মধ্যে কেউ একজন এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জয় পাওয়ারকে বড় কোনও ভূমিকার জন্য তৈরি করছিলেন অজিত। তা সত্ত্বেও, অভিজ্ঞ নেতারা মনে করছেন পরিবারকে এবং দলকে এই সংকটে একতাবদ্ধ রাখতে সুনেত্রা পাওয়ারই সেরা বিকল্প।
একীভূত হবে কি দুই এনসিপি?
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে শারদ পাওয়ার ও সুপ্রিয়া সুলের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সঙ্গে অজিত শিবিরের পুনর্মিলন নিয়ে। যদি এই একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়, তবে সুনেত্রা পাওয়ারের উপস্থিতি দলকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে বলে মনে করছেন এনসিপি নেতৃত্ব। দলীয় এক পদাধিকারী বলেন, “এনসিপি-র পরিচয় পাওয়ার পরিবারের সঙ্গেই অবিচ্ছেদ্য। অজিতদাদার অবর্তমানে তাঁর জায়গায় দলের কর্মীরা একমাত্র সুনেত্রা পাওয়ারকেই দেখতে পাচ্ছেন।”
মহারাষ্ট্রের এই রাজনৈতিক মোড় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার। শীঘ্রই মুম্বইতে এনসিপি-র বিধায়ক দলের বৈঠক হতে চলেছে, যেখানে পরবর্তী দলনেতা নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।




















