কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বঙ্গ রাজনীতিতে বইতে শুরু করেছে গরম হাওয়া। বুধবার রাতে রাজারহাট নিউটাউনের একটি বেসরকারি হোটেলে সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রধান তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের মধ্যে এক দীর্ঘ বৈঠক হয়। এই বৈঠকের পর থেকেই বাম শিবিরের সঙ্গে হুমায়ুনের নতুন দলের জোট সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
সাবধানী সেলিম, মরিয়া হুমায়ুন
পিটিআই ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে বিধানসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতা ও জোট প্রক্রিয়া নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে মহম্মদ সেলিম এই বিষয়ে অত্যন্ত সাবধানী অবস্থান নিয়েছেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক অভিপ্রায় এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা জানতেই এই আলোচনা। সেলিম স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জোটের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের অভ্যন্তরে এবং বামফ্রন্টের অন্দরে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর জোট নিয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। তিনি সেলিমকে অনুরোধ করেছেন যেন ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি, তিনি নওসাদ সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-কেও এই জোটে শামিল করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
যুক্তি ও পালটা যুক্তির লড়াই CPIM Humayun Kabir alliance
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্ভাব্য জোট বাম নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে৷ ২০২১ সালে আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট নিয়ে সিপিআইএম-এর অন্দরে কম বিতর্ক হয়নি। বামপন্থী হয়ে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় ভাবাবেগ সম্পন্ন দলের সঙ্গে হাত মেলানো নিয়ে কর্মীদের একাংশের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল।
হুমায়ুনের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন
হুমায়ুন কবীর সম্প্রতি মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে স্থাপত্য তৈরির ঘোষণা দিয়ে নিজেকে ‘মুসলিমদের রক্ষাকর্তা’ হিসেবে তুলে ধরছেন। এই কট্টর অবস্থান ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ তকমাধারী সিপিআইএম-এর জন্য গলার কাঁটা হতে পারে। আভ্যন্তরীণ সংকটের দিকটিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷ হুমায়ুনের হাত ধরলে দলের অন্দরে ফের মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসতে পারে, যা বিধানসভা ভোটের আগে বামেদের জন্য অস্বস্তিকর।
আগামী দিনের সম্ভাবনা
হুমায়ুন কবীর ইতিপূর্বেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের আশা ক্ষীণ৷ তিনি সিপিআইএম, আইএসএফ এবং প্রয়োজনে মিম (AIMIM)-কে নিয়ে বিকল্প ফ্রন্ট গড়ার উদ্যোগ নেবেন৷ তবে মহম্মদ সেলিম হটকারী সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ৷ তিনি প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছেন মেপে। পার্টির নিচুতলার কর্মীদের সেন্টিমেন্ট বুঝে এবং বামফ্রন্টের শরিক দলগুলোর সাথে কথা বলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।




















