কলকাতা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এবং অনুপ্রবেশ (border)এই জাতীয় শব্দবন্ধগুলো যেন এখন হয়ে গিয়েছে বাংলার রোজনামচা। অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রত্যেকদিনই সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। তার কারণ হল ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের ৮৬৪ কিলোমিটার এখনও অরক্ষিত। সেখানে নেই কাঁটা তারের বেড়া দেওয়া নিয়ে বহুদিন ধরে চলছে কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক তরজা। কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যকে সতর্ক করছে এবং স্পষ্ট করে নোটিশ দিয়ে বলছে সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি অধিগ্রহণ করার কথা।
কিন্তু রাজ্য সরকারের কোনও হেলদোল নেই। তবে এই ট্র্যায় এবার হস্তক্ষেপ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করে BSF এর হাতে তুলে দিতে হবে নাহলে কড়া ব্যবস্থা নেবে আদালত। আজ আদালত তার পর্যবেক্ষণে পরিষ্কার করে বলে দিয়েছে যে প্রশাসনিক কাজে গড়িমসি আর চলবে না।
মোদীর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সস্তা হবে বিদেশি মদ!
নির্ধারিত দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করে BSF র হাতে না দিলে আলাদা ব্যবস্থা নেবে আদালত। আদালত আরো বলেছে যে যতটা দ্রুততার সঙ্গে সম্ভব ৯ টি সীমান্তবর্তী জেলার মধ্যে এই কাঁটাতারের বেড়া বসাতে হবে। জমি অধিগ্রহনের ব্যাপারেও নতুন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট। তারা বলেছে ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন সেকশন ৪০ প্রযোজ্য কিনা তা খতিয়ে দেখবে আদালত।
আদালতের এই রায়ে খুশি বঙ্গ বিজেপি। তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে বাংলায় অনুপ্রবেশ হচ্ছে ওই বেড়া না দেওয়া অংশ দিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা বিজেপি অভিযোগ করে তৃণমূল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে এই জায়গায় বেড়া দিতে দিচ্ছে না এবং জমি অধিগ্রহণে সমস্যা করছে। এছাড়াও বিজেপি অভিযোগ এনেছে যে এই জায়গাগুলো দিয়েই তৃণমূল বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকিয়ে দিচ্ছে বাংলায় এবং তারা ভারতে এসে অবৈধ নথি বানিয়ে নিয়ে তৃণমূলের ভোটব্যাংকে পরিনিত হয়েছে।
স্বয়ং নরেন্দ্র মোদীও বাংলায় এসে বহুবার বলে গিয়েছেন যে বাংলার জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। তাছাড়া সাম্প্রতিক কালে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের সময়েও একাধিক সীমান্তবর্তী জেলায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহল থেকে সামাজিক মহল সব জায়গায়তেই আদালতের এই রায় নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং আগামী নির্ধারিত দিনের মধ্যে সরকার জমি দেবে কি দেবে না তার উপর নির্ভর করছে আদালতের পরবর্তী অ্যাকশন।



















