নয়াদিল্লি: এবার আরও সস্তা হতে চলেছে বিদেশী মদ। (India EU)বিয়ে হোক বা জন্মদিন, আনন্দ হোক বা দুঃখ জীবনের বিভিন্ন ইমোশনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিদেশী মদ। কিন্তু ভাল বিদেশী মদ কিনতে গেলে দরকার ভাল রেস্ত এবং সেই জন্যেই অনেকেই কিনতে গিয়েও পিছিয়ে আসেন কিংবা কিনে ফেলেও পকেটে হাত দেন। এবার সেই রেস্ত কমিয়ে বিদেশী মদকে সাধারণ মানুষের পকেট ফ্রেন্ডলি করতে চলেছে ভারত সরকারের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।
প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনই ইউরোপিয়ান উনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সাক্ষর করেছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বাণিজ্য চুক্তিকে মাদার অফ অল ডিল বলে উল্লেখ করেছেন। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য দুটি। প্রথমত বিদেশের মাটিতে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ সহজ করা এবং দ্বিতীয়ত ভারত যে বিদেশী পণ্যগুলি আমদানি করে তার শুল্ক কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা।
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে সিআইডির মামলায় অভিযুক্তকে প্রার্থী করছে তৃণমূল!
ভারতে সাধারণত বিদেশী মদ আসে ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি এবং স্পেনের মত দেশগুলি থেকে। এই সব দেশ থেকে যে ওয়াইন আসে তার উপরে ভারতে শুল্ক দিতে হয় ১৫০% এবং এই নতুন বাণিজ্য চুক্তির ফলে শুল্ক কমে গিয়ে হয়ে যাচ্ছে ২০%। তবে দেশীয় বাজারে ধাক্কা এড়াতে এই শুল্ক ধীরে ধীরে ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। ফলে কোনিয়াক, জিন এবং ভদকার দাম কমবে।
তবে ২.৫ ইউরোর কম দামের ওয়াইনগুলিতে কোনও শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়াও দামি গাড়ির দাম কমবে BMW বা মার্সিডিজ এই ধরণের গাড়িগুলি আরও সস্তা হবে যদিও তা মধ্যবিত্তদের পকেট ফ্রেন্ডলি হবে না। এছাড়াও মারণ রোগ ক্যান্সারের ওষুধ এবং আরও ২৭ টি জেনেরিক ওষুধের দাম কমার সম্ভবনা রয়েছে। তাছাড়াও মোবাইলের স্পেয়ার পার্টস এবং বিমানের যন্ত্রাংশ সস্তা হবে।
তবে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি লাগু হতে আরো একবছর লাগতে পারে বলেই মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তার কারণ চুক্তি পত্রে সই হওয়া মানেই কিন্তু চুক্তি পূর্ণতা পায়না। তার জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পার্লামেন্টে এই চুক্তি পাস হতে হবে। তবে বিশ্বের তাবড় কূটনীতিকরা মনে করছেন যে এই চুক্তি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং ভারতের একটি কূটনৈতিক চাল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে শুল্ক চাপিয়ে ভারতকে চেইপ রাখতে চেয়েছিলেন সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ভারতের পাল্টা কূটনৈতিক চাল এই বাণিজ্য চুক্তি এবং তারা আশাবাদী যে এই চুক্তি পার্লামেন্টেও পাস হয়ে যাবে।



















