কলকাতা: কসবা আইন কলেজে গত বছর ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর (South Kolkata)গণধর্ষণ মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হয়েছে টালবাহানা। মঙ্গলবার শুরু করা সম্ভব হল না এই মামলার শুনানি। আলিপুর আদালতের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের এজলাসে মামলাটি উঠলেও, প্রসিকিউশনের তরফে একটি আবেদন জানানো হয় অন্য কোনও সাক্ষীর বয়ান গ্রহণের আগে নির্যাতিতা ছাত্রীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হোক। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক এই বিষয়ে আদেশ সংরক্ষণ করেন।
সূত্রের খবর, এদিন মামলায় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। এই মামলায় মোট ৮৩ জন সাক্ষী রয়েছেন, যাঁদের বক্তব্য ধাপে ধাপে আদালতে গ্রহণ করার কথা। তবে প্রসিকিউশনের দাবি, মামলার সংবেদনশীলতা এবং নির্যাতিতার নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে তাঁর জবানবন্দি আগে রেকর্ড করা অত্যন্ত জরুরি।
শেষ মুহূর্তের ডাক পেয়েও অনিশ্চয়তায় স্কটল্যান্ড, ফের সুযোগ বাংলাদেশের!
গত বছরের ২৫ জুনের এই ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে এবং আগস্ট মাসে তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয়। অভিযুক্তদের মধ্যে একমাত্র কলেজের নিরাপত্তারক্ষী পিনাকি বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। বাকি তিনজন মূল অভিযুক্ত মনোজিত মিশ্র ওরফে ম্যাঙ্গো, যিনি ওই কলেজের প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন নেতা বলে পরিচিত, এবং দুই ছাত্র জাইব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায় এখনও জেল হেফাজতে রয়েছেন।
মঙ্গলবার মনোজিত মিশ্র, জাইব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায়কে আদালতে হাজির করানো হয়। জামিনে থাকা নিরাপত্তারক্ষী পিনাকি বন্দ্যোপাধ্যায়ও সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি বিচারক আমাদের আবেদনের বিষয়ে নির্দেশ দেবেন নির্যাতিতার জবানবন্দি আগে রেকর্ড করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত তখনই জানা যাবে।”
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। অভিযোগের ধারাগুলির মধ্যে রয়েছে গণধর্ষণ, সাধারণ অভিপ্রায়, গুরুতর আঘাত করার উদ্দেশ্যে অপহরণ, বেআইনি আটক, প্রমাণ লোপাট, স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত করা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র। পাশাপাশি মনোজিত মিশ্র, প্রমিত মুখোপাধ্যায় ও জ়াইব আহমেদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে অতিরিক্ত ধারাও যোগ করা হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে সম্মতি ছাড়া নারীর ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ।
পুলিশের চার্জশিট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ২৪ বছর বয়সি ওই আইন কলেজের ছাত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁকে কলেজের নিরাপত্তারক্ষীর ঘরের ভিতরে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, নিরাপত্তারক্ষী পিনাকি বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ঘর ফাঁকা করে দেন এবং কলেজের গেট বন্ধ করে অন্যত্র চলে যান, যাতে অপরাধ নির্বিঘ্নে সংঘটিত করা যায়।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, যেখানে একটি এক্সহস্ট ফ্যান বসানোর কথা ছিল, সেই দেওয়ালের ফাঁক দিয়েই অভিযুক্তরা গোটা ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে। পরে তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে সেই ভিডিও উদ্ধার করেন, যা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অভিযোগ, মনোজিত মিশ্র এই ভিডিও দেখিয়ে নির্যাতিতাকে ব্ল্যাকমেল করতেন এবং গোটা ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
বিচার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় নির্যাতিতার পরিবার ও নাগরিক সমাজের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হলেও, আইনজীবীরা বলছেন আইন অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতিতে সাক্ষ্যগ্রহণই ন্যায়বিচারের একমাত্র পথ। এখন সকলের নজর ৯ ফেব্রুয়ারির দিকে, যেদিন আদালতের সিদ্ধান্তে এই মামলার বিচার কোন পথে এগোবে, তা অনেকটাই স্পষ্ট হবে।




















