নয়াদিল্লি: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হল সংসদের বাজেট অধিবেশন। প্রথা মেনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর যৌথ অধিবেশনে ভাষণের মাধ্যমেই এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের সূচনা করেন। ২০২৬ সালের এই বাজেট অধিবেশনকে একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় পর্যায়ের এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করে রাষ্ট্রপতি দেশের সাফল্য, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং বীরত্বের খতিয়ান তুলে ধরেন।
‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর ও বঙ্কিম-স্মরণ
রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণের শুরুতেই ভারতের ঐতিহ্য ও অগ্রগতির কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “বন্দে মাতরম-এর ১৫০তম বার্ষিকী সারা দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে। দেশবাসী ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে তাঁর মহান অনুপ্রেরণার জন্য গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।” সংসদে এই বিশেষ বিষয়ে আলোচনার জন্য সাংসদদের অভিনন্দন জানান তিনি।
‘অপারেশন সিঁদুর’: বিশ্বের দরবারে ভারতের শৌর্য President Murmu address Budget Session
রাষ্ট্রপতির ভাষণের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর উল্লেখ। ভারত যে জঙ্গি দমনে কোনো আপস করবে না, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “অপারেশন সিঁদুর বিশ্বের দরবারে ভারতের সামরিক শৌর্য ও কৌশলগত দক্ষতা প্রদর্শন করেছে। এই অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গি শিবিরগুলো সফলভাবে ধ্বংস করে ভারত নিজের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা প্রমাণ করেছে।”
দারিদ্র্যমুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার
সরকারের সাফল্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রকৃত সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারের ফলেই গত এক দশকে প্রায় ২৫ কোটি নাগরিক দারিদ্র্যের অন্ধকার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সরকারের তৃতীয় মেয়াদে দরিদ্রদের ক্ষমতায়নের এই অভিযান আরও গতি পাবে।
সংসদে ‘জি রাম জি’ বিল নিয়ে শোরগোল
রাষ্ট্রপতি যখন তাঁর ভাষণে ‘জি রাম জি’ বিলের প্রসঙ্গের অবতারণা করেন, তখনই সংসদের পরিবেশ বদলে যায়। শাসক শিবিরের প্রবল করতালি এবং উল্লাসের মাঝে বিরোধী বেঞ্চ থেকে স্লোগান উঠতে শুরু করে। কিছুক্ষণের জন্য সংসদে হট্টগোল হলেও রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ জারি রাখেন।
রাষ্ট্রপতির কণ্ঠে বাংলা ও রবীন্দ্রনাথ
পূর্ব ভারতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতির মুখে বারবার ফিরে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের নাম। বাংলা ও ওড়িশার উপকূলীয় অঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেন তিনি। প্রকৃত স্বাধীনতার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী উদ্ধৃতিও ব্যবহার করেন।
দুই পর্যায়ে চলবে অধিবেশন
২০২৬ সালের এই বাজেট অধিবেশন চলবে আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত। দুটি পর্যায়ে বিভক্ত এই অধিবেশনে দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ হওয়ার কথা রয়েছে।




















