তালিবানি ফতোয়ায় চিরদিনের মত মেয়েদের স্কুল যাওয়া বন্ধ

কাবুল: তালিবানি ফতোয়া তে বন্ধ হল স্কুল যাওয়া। তালিবানের (Taliban)শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, আফগানিস্তানে নারীদের স্কুলে যাওয়া স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ। এই ঘোষণা দেশটির নারী ও মেয়েদের শিক্ষার ওপর আরও ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
taliban-permanently-bans-girls-education

কাবুল: তালিবানি ফতোয়া তে বন্ধ হল স্কুল যাওয়া। তালিবানের (Taliban)শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, আফগানিস্তানে নারীদের স্কুলে যাওয়া স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ। এই ঘোষণা দেশটির নারী ও মেয়েদের শিক্ষার ওপর আরও একটা চূড়ান্ত আঘাত। ২০২১ সাল ও ফতোয়া জারি হয়েছিল কিন্তু এখন থেকে এই নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিক ভাবে মর্যাদা পেয়েছে আফগানিস্তানে। আফগানিস্তান এখন বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে মেয়েরা প্রাথমিক স্তরের পরে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না।

এমনকি নার্সিং বা মিডওয়াইফারির মতো মেয়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোর্সও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।শিক্ষামন্ত্রীর এই সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নারীদের শিক্ষা ‘স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ’ এবং এই বিষয়ে কোনো প্রশ্নও করা যাবে না। এর আগে থেকেই মেয়েরা ষষ্ঠ শ্রেণির পরে স্কুলে যেতে পারত না, বিশ্ববিদ্যালয় তো দূরের কথা। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞায় প্রায় ২২ লক্ষ মেয়ে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

   

৩২ ঘণ্টার অপেক্ষার পর সুজিতের খোঁজ, দমকলমন্ত্রীকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান বিজেপির

চার বছর ধরে এই নিষেধাজ্ঞা চলছে, কিন্তু এখন তা ‘পার্মানেন্ট’ ঘোষণা করে তালিবান আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা এই নীতি থেকে সরবে না।২০২১ সালের আগস্টে কাবুল দখলের পর থেকেই তালিবান নারীদের অধিকার কেড়ে নিতে শুরু করে। প্রথমে মেয়েদের মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষেধাজ্ঞা। ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।

এরপর ধীরে ধীরে নার্সিং, মিডওয়াইফারি, এমনকি কিছু ভোকেশনাল কোর্সও বন্ধ। সাম্প্রতিকতম ঘোষণায় শিক্ষামন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, এখন থেকে নারীদের যেকোনো স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি প্রশ্ন করলেও শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে।এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আফগানিস্তানের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজে বড় ধাক্কা পড়ছে।

নারীরা শিক্ষিত না হলে ভবিষ্যতে ডাক্তার, নার্স, শিক্ষক বা অন্যান্য পেশায় তাদের অংশগ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। ইতিমধ্যে দেশে নার্সের অভাব দেখা দিয়েছে, যা মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার বাড়াচ্ছে। ইউএন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এটা একটা প্রজন্মকে হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘোষণায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অড্রে আজুলাই বলেছেন, “এটা অগ্রহণযোগ্য।

নারীদের শিক্ষার অধিকার অ-আলোচনাযোগ্য।” হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ অনেক সংস্থা বলছে, তালিবানের এই নীতি ‘জেন্ডার অ্যাপার্থাইড’-এর অংশ। তবু তালিবানের সুপ্রিম লিডার হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ও তার ঘনিষ্ঠ চক্র এই নীতি থেকে সরতে রাজি নয়। তারা দাবি করে, এটা ‘ইসলামিক শরিয়া ও আফগান সংস্কৃতি’-র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু আফগানিস্তানের অনেক ধর্মীয় পণ্ডিত ও সাধারণ মানুষ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলছেন, ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য শিক্ষা গ্রহণের কথা বলা আছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google