বিজেপি দেশের মালিক নয়! কড়া প্রতিক্রিয়া মাদানির

উত্তরাখণ্ডে অ-হিন্দুদের ধর্মীয় স্থানে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা ঘিরে (Arshad Madani)দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তীব্র আকার নিয়েছে। এই ইস্যুতে সরব হয়ে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দিলেন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি আরশাদ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
arshad-madani-non-hindu-entry-ban-uttarakhand-assam

উত্তরাখণ্ডে অ-হিন্দুদের ধর্মীয় স্থানে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা ঘিরে (Arshad Madani)দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তীব্র আকার নিয়েছে। এই ইস্যুতে সরব হয়ে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দিলেন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি আরশাদ মাদানি।

তিনি স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেছেন, দেশের একটি অংশ নিজেদেরই একমাত্র মালিক মনে করছে এবং সাধারণ মানুষকে যে কোনও দিকে চালিত করার ক্ষমতা নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে। তবে তাঁর কথায়, “সময় বদলে গেছে, মানুষ আর সব কিছু চুপচাপ মেনে নেবে না।”

   

এক সর্বভারতীয় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরশাদ মাদানি বলেন, ধর্মীয় স্থানে প্রবেশের নামে এই ধরনের বিধিনিষেধ সংবিধানের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। তাঁর মতে, ভারত কোনও একটি ধর্মের দেশ নয়, বরং বহু ধর্ম, বহু সংস্কৃতির সহাবস্থানের দেশ। “মানুষের উচিত ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের সঙ্গে বসবাস করা জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ সবসময় এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে,” বলেন মাদানি।

উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ-সহ একাধিক ধর্মীয় স্থানে অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিয়ে বিজেপি সরকারের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। বিরোধীদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত কেবল ধর্মীয় বিভাজনই নয়, সামাজিক মেরুকরণও বাড়াচ্ছে। আরশাদ মাদানি বলেন, “এটা শুধু কেদারনাথের ঘটনা নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি বিশেষভাবে অসমের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, সেখানে একের পর এক সম্পূর্ণ মুসলিম অধ্যুষিত কলোনি ভেঙে ফেলা হচ্ছে এবং লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। “যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই দেশে বাস করছে, হঠাৎ করেই তাদের বিদেশি বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে,” বলেন মাদানি। তাঁর মতে, এটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি গভীর রাজনৈতিক এজেন্ডার প্রতিফলন।

আরশাদ মাদানি আরও বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের ভাগ করার এই প্রবণতা দেশের সামাজিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক। “আজ মুসলিমদের টার্গেট করা হচ্ছে, কাল অন্য কোনও সম্প্রদায়ের পালা আসতে পারে। এই রাজনীতি শেষ পর্যন্ত দেশকেই দুর্বল করবে,” সতর্ক করেন তিনি।

জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে ধর্ম, ভাষা বা জাতির ভিত্তিতে কোনও বৈষম্য চলতে পারে না। মাদানির বক্তব্য, ধর্মীয় স্থান যদি সর্বসাধারণের জন্য খোলা হয়, তবে সেখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আইনত ও নৈতিকভাবে ভুল।

এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে। বিরোধী দলগুলি মাদানির বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেছে, সংখ্যালঘুদের উপর চাপ বাড়ানোর এই প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। অন্যদিকে, শাসক পক্ষের একাংশের দাবি, ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষার স্বার্থেই কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি আর শুধু ধর্মীয় স্থানে প্রবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন নাগরিক অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ভারতের সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। উত্তরাখণ্ড থেকে অসম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘুদের নিয়ে যে অভিযোগগুলি উঠছে, তা জাতীয় স্তরে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিচ্ছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google