বেজিং: আমেরিকার কাছে গোপন তথ্য ফাঁস। তাও আবার পারমানবিক তথ্য (Army Chief)। এ যেন সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা। ঠিক এমনটাই অভিযোগ এসেছে চীনের শীর্ষ সেনা কর্তা জেনারেল ঝাং র বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে জেনারেল ঝাং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর কাছে দেশের অত্যন্ত গোপনীয় পারমানবিক তথ্য পাচার করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে বিতর্কও।
রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এই মুহূর্তে সামরিক ব্যাটন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। স্বভাবতই এই ঘটনা চীনের রাজনীতিতে বিশাল বড় ধাক্কা এবং এর সঙ্গে যখন নিজের দেশের তথ্য পাচারের অভিযোগ ওঠে তখন তা পরিণত হয় অপরাধে। বেজিংয়ের একটি গোপন বৈঠকে এই অভিযোগ সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসে রাজনৈতিক মহল। সেই সঙ্গেই এই ইস্যুতে সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমও।
সাম্বা সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা! বিএসএফ-এর গুলিতে খতম অনুপ্রবেশকারী
জেনারেল ঝাং ইউশিয়া চীনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং সক্রিয় সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অফিসার। তিনি একসময় জিনপিংয়ের ঘনিষ্ট ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। চীন সরকার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে তিনি নাকি দেশের পারমানবিক প্রযুক্তিগত তথ্য বিক্রি করে প্রচুর ঘুষ নিচ্ছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে। এই ঘটনাই জানান দেয় চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যেও কি পরিমান বিশ্বাসঘাতকতা রয়েছে এবং তা কোন স্তরে গিয়ে পৌঁছেছে।
এই ঘটনা চীনের সেনাবাহিনীতে চলতে থাকা পার্যের একটি নতুন অধ্যায়। ২০২৩ সাল থেকে রাষ্ট্রপতি জিনপিং সেনাবিহিনীর ভিতরে বেনোজল পরিষ্কার করার অভিযানে নেমেছেন। এবং জেনারেল ঝাং র এই বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ সবচেয়ে বড় অভিযানের অংশ বলেও বিবেচিত হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। তবে বিশ্বের তাবড় কূটনৈতিকরা তাদের মোট ব্যাক্ত করে বলেছেন যে ক্ষমতা এবং অর্থ বিশ্বাস যোগ্যতার পরিপন্থী।
কোনও ব্যাক্তি যদি ক্ষমতা এবং অর্থের লোভে পড়ে যান তবে তা থেকে শুধু দুর্নীতির সৃষ্টি হয় যা দেশের জন্যে ক্ষতি। আবার অনেকেই বলেছেন চীন বামপন্থী দেশ তাই বামপন্থীরা ক্ষমতার লোভে বিশ্বাসঘাতকতা করতেই পারেন এবং এর নজির ইতিহাসেও দেখা গিয়েছে। বামপন্থীদের বিশ্বাসঘাতকতা উদাহরণে বিশ্বের ইতিহাস পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে এমনটাও অভিযোগ করেছে অনেকেই।
তবে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলে এই মুহূর্তে এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে নিন্দার ঝড়। তবে আরও একটি বিষয় সামনে আসছে তা হল যেভাবে চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে ফাঁকফোকর ধরা পড়ছে তাতে চীন ক্রমশই জিনপিং নির্ভর হয়ে যাচ্ছে। এবং কিছু কূটনীতিক মনে করছেন এমন চলতে থাকলে খুব শিগগিরই দেশে ফের এক নায়কতন্ত্র ফিরে আসতে পারে।




















