বিদেশি সংবাদমাধ্যমে রয়টার্স সহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে (Operation Sindoor)পাকিস্তান যতই নিজেদের ঢাক পেটাক না কেন, বাস্তব সত্য আর আড়াল করা যাচ্ছে না। অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানের সামরিক শক্তির ভিত যে নড়বড়ে হয়ে গেছে, তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেল Global Firepower Index 2026–এ। এই সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান ১২তম স্থান থেকে নেমে ১৪তম স্থানে চলে গেছে, যা আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে সরাসরি অপারেশন সিঁদুরের ফল।
২০২৫ সালের মে মাসে সংঘটিত অপারেশন সিঁদুর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পাল্টা জবাবে ভারত চার দিনের মধ্যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নির্ভুল মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়।
ম্যাক ১০ গতি, ১৫০০ কিমি পাল্লা! সাধারণতন্ত্র দিবসে DRDO-র হাইপারসোনিক চমক
এই অভিযানে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি, রাডার সাইট এবং গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবেস ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হামলাগুলি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত দুর্বলতা প্রকাশ্যে এনে দেয়।
বিশেষ করে পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং ড্রোন মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। অপারেশন সিঁদুরে ভারতের ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির সামনে পাকিস্তান কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের পাওয়ার ইনডেক্স স্কোরে, যা তাদের র্যাঙ্কিং পতনের অন্যতম কারণ।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জন্য এই ধাক্কা আরও বড়, কারণ শুধু সামগ্রিক সামরিক শক্তিতেই নয়, বাহিনীর মর্যাদার ক্ষেত্রেও পতন ঘটেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, জেনারেল আসিম মুনির–এর নেতৃত্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবস্থান ৭ম স্থান থেকে নেমে ১৪তম স্থানে চলে এসেছে। এই পতন কেবল সংখ্যার হিসেব নয়; বরং কৌশলগত পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অভিযোজনের ব্যর্থতার প্রতিফলন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স র্যাঙ্কিং তৈরি করতে ৬০টিরও বেশি ফ্যাক্টর বিবেচনা করে যার মধ্যে রয়েছে সেনা সংখ্যা, অস্ত্রভাণ্ডার, লজিস্টিক সাপোর্ট, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা। অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যর্থতা ও কমান্ড-কন্ট্রোল দুর্বলতা এই সমস্ত সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
২০২৫ সালেই জেনারেল আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করা হয়েছে এবং চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেসের মতো নতুন ক্ষমতাসম্পন্ন পদ সৃষ্টি করে তাঁর হাতে আরও কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রশাসনিক শক্তি বৃদ্ধিও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ধরে রাখতে পারেনি। এর পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সেনাবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সামরিক প্রস্তুতিকে আরও দুর্বল করেছে।
অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তান চীন ও তুরস্ক থেকে বিপুল পরিমাণ ড্রোন, মিসাইল ও আধুনিক অস্ত্র কিনে প্রতিরক্ষা জোরদার করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্ত্র সংগ্রহ এখনও ভারতের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত অগ্রগতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না।
ভারতের জন্য অপারেশন সিঁদুর নিঃসন্দেহে একটি গেম-চেঞ্জার। এই অভিযানে ভারতীয় বাহিনী নয়টি জঙ্গি ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে এবং পাকিস্তানের অন্তত ১১টি এয়ারবেস ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলেই ভারত Global Firepower Index 2026 এ নিজের ৪র্থ স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা পাকিস্তানের থেকে অনেকটাই এগিয়ে।




















