ইডি তদন্তে নয়া তথ্য! প্যাঁচে পড়ল আইপ্যাক

কলকাতা: ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (I-PAC)-এর ফান্ডিং নিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র তদন্তে নতুন করে বড় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১ সালে আই-প্যাক একটি “আনসিকিউর্ড লোন” হিসেবে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
ed-probe-ipac-funding-irregularities

কলকাতা: ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (I-PAC)-এর ফান্ডিং নিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র তদন্তে নতুন করে বড় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১ সালে আই-প্যাক একটি “আনসিকিউর্ড লোন” হিসেবে ১৩.৫০ কোটি টাকা পেয়েছিল হরিয়ানার রোহতক-ভিত্তিক একটি কোম্পানি থেকে। কিন্তু এই কোম্পানির নাম ‘রামাসেতু ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন্ডিয়া (পি) লিমিটেড’ যার অস্তিত্বই নেই অফিসিয়াল রেকর্ডে!

এই তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় আই-প্যাকের আর্থিক লেনদেন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে এবং ইডিকে এই ট্রেল দ্রুত তদন্ত করার দাবি জোরালো হয়েছে।আই-প্যাক ভারতের অন্যতম বড় পলিটিক্যাল কনসালটেন্সি ফার্ম, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কৌশল, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ক্যাম্পেইন ম্যানেজমেন্ট করে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সবার জানা।

   

ভাটপাড়ায় যুবককে পিটিয়ে খুন! দোষীদের প্রকাশ্যে আনলেন অর্জুন

সম্প্রতি ইডি কলকাতায় আই-প্যাকের অফিসসহ বিভিন্ন জায়গায় রেইড চালিয়েছে, যা মূলত মানি লন্ডারিং এবং বিদেশি ফান্ডিং সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে। এই তদন্তের মধ্যেই এই নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-সহ একাধিক মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, আই-প্যাকের ফাইন্যান্সিয়াল ফাইলিং-এ ২০২১ সালে এই ১৩.৫০ কোটি টাকাকে ‘আনসিকিউর্ড লোন’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

লোনদাতা কোম্পানির ঠিকানা দেওয়া হয়েছে রোহতকের অশোকা প্লাজার তৃতীয় তলা। কিন্তু রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজ (আরওসি)-এর রেকর্ড খতিয়ে দেখা গেছে যে, এই নামে কোনো কোম্পানি নেই। কোনো ইনকর্পোরেশন, ট্যাক্স রেকর্ড বা অন্য কোনো অফিসিয়াল ডকুমেন্টে এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, অনুরূপ নামের একটি কোম্পানি ছিল, কিন্তু তা কয়েক বছর আগেই স্ট্রাইক অফ (বাতিল) হয়ে গিয়েছে। ফলে এই লোনের উৎস নিয়ে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

আই-প্যাকের পক্ষ থেকে পরে একটি ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, ২০২৪-২৫ সালে তারা এই লোনের ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে এবং বাকি অংশ এখনও বকেয়া। কিন্তু যদি লেনদাতা কোম্পানির অস্তিত্বই না থাকে, তাহলে এই লোন কোথা থেকে এল? কীভাবে এত বড় অঙ্কের টাকা একটি অস্তিত্বহীন সত্তা থেকে এল? এই প্রশ্নগুলো সরাসরি মানি লন্ডারিং, হাওয়ালা বা অবৈধ ফান্ডিংয়ের দিকে ইঙ্গিত করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু আই-প্যাকের সমস্যা নয়, বরং যে রাজনৈতিক দলগুলো এর সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ইডি ইতিমধ্যে আই-প্যাকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, লেনদেন এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এই নতুন তথ্য তদন্তকে আরও জোরালো করবে। রোহতকের ঠিকানা, টাকার ট্রান্সফারের রুট এবং আসল উৎস খুঁজে বের করা এখন জরুরি।

কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইডির তদন্তে বাধা দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।এই ঘটনা ভারতীয় রাজনীতিতে পলিটিক্যাল কনসালটেন্সি ফার্মগুলোর ফান্ডিং নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।

আই-প্যাকের মতো ফার্মগুলো নির্বাচনী প্রচারে বড় ভূমিকা পালন করে, কিন্তু তাদের টাকার উৎস যদি সন্দেহজনক হয়, তাহলে গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইডিকে এই ট্রেল পুরোপুরি অনুসরণ করতে হবে। যদি প্রমাণিত হয় যে, এটি অবৈধ ফান্ডিংয়ের অংশ, তাহলে বড় রাজনৈতিক নেতৃত্বও প্রভাবিত হতে পারে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google