অপহরণের জবাব এনকাউন্টারে দিল যোগী পুলিশ! খতম হল ইমান

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের পুলিশ বাহিনী (UP Police)আবারও কড়া অ্যাকশন নিয়ে খবরের শিরোনামে। চিত্রকূট জেলার বরগড় এলাকায় একটি ভয়াবহ অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের এনকাউন্টারে অভিযুক্ত ইমান ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
up-police-encounter-chitrakoot-kidnapping-murder

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের পুলিশ বাহিনী (UP Police)আবারও কড়া অ্যাকশন নিয়ে খবরের শিরোনামে। চিত্রকূট জেলার বরগড় এলাকায় একটি ভয়াবহ অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের এনকাউন্টারে অভিযুক্ত ইমান ওরফে কল্লু নিহত হয়েছে।

তার সঙ্গী ইরফান গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় গ্রেফতার হয়েছে। এই ঘটনার শিকার হয়েছে মাত্র ১৩ বছরের নিরীহ শিশু আয়ুষ কেশরবানি, যাকে দিনের আলোয় অপহরণ করে নির্মমভাবে খুন করা হয় এবং পরিবার ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিতে না পারায় তার মৃতদেহ একটি বাক্সে ভরে লুকিয়ে রাখা হয়।

   

ঘটনাটি ঘটেছে চিত্রকূটের বরগড় কসবায়। আয়ুষের বাবা অশোক কেশরবানি একজন কাপড়ের ব্যবসায়ী। পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল অভিযুক্তদের। ইমান ওরফে কল্লু এবং মোহাম্মদ ইরফান ছিলেন তাদের পুরনো ভাড়াটে। আয়ুষ তাদের ‘ভাইয়া’ বলে ডাকত। কিন্তু বিশ্বাসের এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তারা ছেলেটিকে অপহরণ করে। দিনের বেলায় রাস্তায় থেকে তাকে তুলে নেয়।

কংগ্রেসের পলিসিতে বিরক্তির কারণ ফাঁস শশীর

তারপর ৪০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ফোন করে পরিবারকে। পরিবার যখন টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করে, তখন ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা আয়ুষকে নির্মমভাবে খুন করে। মৃতদেহকে তারা বাড়ির শৌচাগারে মাটি চাপা দিয়ে রাখে, পরে একটি বাক্সে ভরে লুকিয়ে রাখে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।এই নৃশংসতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাজার বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। হাইওয়ে অবরোধ করে তারা প্রতিবাদ জানান। পরিবার ও স্থানীয়রা দাবি করেন যে, অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি হোক। এই পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার চিত্রকূট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে অভিযুক্তদের সংঘর্ষ বাধে।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা গুলি চালালে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এতে ইমান ওরফে কল্লু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। ইরফান গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় গ্রেফতার হয়। তাকে প্রয়াগরাজে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।যোগী আদিত্যনাথ সরকারের অধীনে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এই অ্যাকশনকে অনেকে ‘বড় অ্যাকশন’ বলে অভিহিত করেছেন। রাজ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘এনকাউন্টার পলিসি’র কড়াকড়ি এবারও প্রয়োগ হল বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এমন নৃশংস অপরাধের পর পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ তাদের মনে কিছুটা সান্ত্বনা দিয়েছে। আয়ুষের পরিবার এখনও শোকে মুহ্যমান। তারা দাবি করেছেন যে, গ্রেফতার হওয়া ইরফানকেও কল্লুর মতোই শাস্তি দেওয়া হোক।

এই ঘটনা সমাজে বড় প্রশ্ন তুলেছে। কীভাবে পুরনো ভাড়াটে বা পরিচিতরা এমন নৃশংসতা করতে পারে? বিশ্বাসের জায়গা থেকে অপরাধ করা আরও ভয়ঙ্কর। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই অপহরণ করেছিল। আয়ুষকে তারা চেনা-জানা বলে সহজেই তুলে নেয়। এখন তদন্ত চলছে যে, আরও কেউ জড়িত ছিল কি না।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google