হঠাৎ প্রত্যাহার শুল্ক! কিসের ইঙ্গিত আমেরিকার?

নয়াদিল্লি: আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি একটি বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন ভারতের উপর আরোপিত ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক সম্ভবত প্রত্যাহার করা হতে পারে। এই শুল্কটি মূলত ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
us-tariff-withdrawal-india-russian-oil-signal

নয়াদিল্লি: আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি একটি বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন ভারতের উপর আরোপিত ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক সম্ভবত প্রত্যাহার করা হতে পারে। এই শুল্কটি মূলত ভারতের রাশিয়ান তেল কেনার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরোপ করা হয়েছিল। বেসেন্ট বলেছেন, “ ভারতের উপর আমাদের ২৫% শুল্ক একটা বিশাল সাফল্য।

ভারতীয় রিফাইনারিগুলোর রাশিয়ান তেল কেনা প্রায় ধসে পড়েছে।” এই মন্তব্যের পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে এবং ভারতীয় অর্থনীতির মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, এই শুল্ক প্রত্যাহার হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে শক্তিশালী হতে পারে।

   

জানুয়ারির শেষে উধাও শীত, ফের বাড়বে তাপমাত্রা

আবার কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে সম্ভবত BRICS র কারেন্সি চালু হবে। আর এই কারেন্সি চালু হলেই পরে যেতে পারে ডলারের দাম। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই জ্যোতি সিদ্ধান্ত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার উপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ান অশোধিত তেলের দাম অনেক কমে যায়।

ভারত তখন এই সুযোগ নিয়ে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে সস্তা তেল আমদানি শুরু করে। এতে ভারতের তেল আমদানির খরচ কমে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য হয় এবং রিজার্ভও সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু আমেরিকা এবং ইউরোপের চোখে এটাকে রাশিয়াকে অর্থনৈতিক সাপোর্ট দেওয়ার সমতুল্য মনে হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন তাই ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যা অন্যান্য শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট শুল্কের হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

এই শুল্ক ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করে, বিশেষ করে টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং আইটি সেক্টরে।স্কট বেসেন্টের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে স্পষ্ট যে, এই শুল্কের উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। তিনি পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, ভারতের রাশিয়ান তেল কেনা “কোল্যাপস” করে গেছে। এর ফলে আমেরিকার পক্ষ থেকে এখন শুল্ক প্রত্যাহারের পথ খোলা রয়েছে।

এই ইঙ্গিতকে অনেক বিশ্লেষক ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ভারত সরকারও এই পরিস্থিতিতে নীরব নেই। সূত্রের খবর, ভারত এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আরও সস্তা এবং নির্ভরযোগ্য তেলের বিকল্প খুঁজছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক এবং কুয়েতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এতে রাশিয়ান তেলের উপর নির্ভরতা কমবে এবং আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কও উন্নত হবে।

এই উন্নয়নের ফলে ভারতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যদি ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার হয়, তাহলে ভারতীয় পণ্য আমেরিকায় আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। রফতানি বাড়বে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং শেয়ার বাজারেও সুবাতাস বইবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে, এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য দুই দেশের মধ্যে আরও আলোচনা দরকার।

এছাড়া, আমেরিকার কংগ্রেসে রাশিয়ান তেল কেনার বিরুদ্ধে ৫০০ শতাংশ শুল্কের প্রস্তাবও ঘুরছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।ভারতের বিদেশ নীতির দিক থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত সবসময়ই বহুমুখী কৌশল অনুসরণ করে।

রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রেখে আমেরিকার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানো এটাই ভারতের লক্ষ্য। রাশিয়ান তেল কেনা কমিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ঝুঁকে পড়া এই ভারসাম্য রক্ষার একটি অংশ। তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google