মহাকাশ গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা! নিজস্ব স্পেস স্টেশন বানাচ্ছে ইসরো

নয়াদিল্লি: চাঁদের দক্ষিণ মেরু জয় করার পর এবার মহাকাশে স্থায়ী বসতি গড়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (ISS) পালটা হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
ISRO Indian Space Station

নয়াদিল্লি: চাঁদের দক্ষিণ মেরু জয় করার পর এবার মহাকাশে স্থায়ী বসতি গড়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (ISS) পালটা হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন ‘ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন’ (BAS) গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরো (ISRO)। সম্প্রতি এই স্টেশনের প্রথম মডিউল তৈরির জন্য ভারতীয় সংস্থাগুলিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার (VSSC)।

২০২৮ সালেই মহাকাশে প্রথম মডিউল

ইসরোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যেই মহাকাশ স্টেশনের প্রথম অংশ বা মডিউলটি উৎক্ষেপণ করা হবে। ‘গগনযান’ মিশনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে একে দেখা হচ্ছে। গগনযান মিশনের মাধ্যমে ভারত যেখানে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য স্থির করেছে, সেখানে অন্তরীক্ষ স্টেশনের মাধ্যমে ভারতীয়রা মহাকাশে থেকে গবেষণা করার সুযোগ পাবেন।

   

দেশীয় প্রযুক্তিতেই ভরসা ISRO Indian Space Station

ইসরো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’। ভারতীয় এরোস্পেস ম্যানুফ্যাকচারিং সংস্থাগুলিকে ‘BAS-01’ নামক প্রথম মডিউলের দুটি সেট তৈরির জন্য ‘এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট’ (EoI) দেওয়া হয়েছে। সরকার এই পরিকাঠামো তৈরির জন্য কোনো আর্থিক সাহায্য দেবে না; বরং ভারতীয় সংস্থাগুলিকেই তাদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে নিখুঁত হার্ডওয়্যার তৈরি করে দিতে হবে।

কতটা চ্যালেঞ্জিং এই নির্মাণ?

মহাকাশ স্টেশনের মডিউল তৈরি করা সাধারণ কোনো কাজ নয়। ইসরোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:

পরিমাপ: প্রতিটি মডিউল হবে ৩.৮ মিটার চওড়া এবং ৮ মিটার লম্বা।

উপাদান: এটি তৈরি হবে উচ্চ-শক্তির অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয় (AA-2219) দিয়ে, যা সাধারণত মানববাহী মহাকাশ যানে ব্যবহৃত হয়।

নির্ভুলতা: ওয়েল্ডিং বা জোড়া লাগানোর ক্ষেত্রে আধ মিলিমিটারের ভুলও গ্রহণযোগ্য নয়।

পরীক্ষা: প্রেশার টেস্ট, লিক টেস্ট এবং মানুষের থাকার উপযোগী কঠোর সুরক্ষা মান বজায় রাখতে হবে।

মহাকাশে ভারতের ভবিষ্যৎ

একবার এই স্টেশন সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়ে গেলে, এটি দীর্ঘমেয়াদী বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও মাইক্রোগ্রাভিটি পরীক্ষার গবেষণাগার হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে গভীর মহাকাশ অভিযানে ভারত আরও বেশি স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে। ২০২৮ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই স্টেশনটিকে ধাপে ধাপে আরও বড় করা হবে।

২০২৮ সালে যদি ভারত এই মডিউলটি কক্ষপথে স্থাপন করতে পারে, তবে বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় ভারতের নাম উজ্জ্বল হবে যাদের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন রয়েছে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google