ভয়াবহ ধস! সুতোর উপর দাঁড়িয়ে পদ্মাপাড়ের টেক্সটাইল

ঢাকা: রাজনীতির উচ্চকণ্ঠ বক্তব্য আর কূটনৈতিক দাপটের আড়ালে (Bangladesh)এবার কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি বাংলাদেশ। দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড বলে পরিচিত টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পে ভয়াবহ ধসের ইঙ্গিত মিলছে। বাংলাদেশের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bangladesh-textile-industry-collapse

ঢাকা: রাজনীতির উচ্চকণ্ঠ বক্তব্য আর কূটনৈতিক দাপটের আড়ালে (Bangladesh)এবার কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি বাংলাদেশ। দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড বলে পরিচিত টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পে ভয়াবহ ধসের ইঙ্গিত মিলছে।

বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের প্রায় সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই খবরে কার্যত আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে শিল্পমহল থেকে শুরু করে শ্রমিক সমাজে।

   

মামা বাড়ির আধ্যাত্মিক মানচিত্রে বিশাল চমক সরকারের

শিল্পমালিকদের অভিযোগ, ভারত থেকে স্বল্পমূল্যের সুতো (Low-cost Yarn) বাংলাদেশি বাজারে ঢুকে পড়ায় দেশীয় মিলগুলি আর প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। ভারতীয় সুতো তুলনামূলকভাবে সস্তা হওয়ায় ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয় উৎপাদকদের থেকে। এর ফলেই একের পর এক মিল লোকসানের মুখে পড়ছে।

শুধু বিদেশি প্রতিযোগিতাই নয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে খরচ, অথচ বাজারদর বাড়ানো যাচ্ছে না। তার উপর রয়েছে ব্যাংক ঋণের পাহাড়সম চাপ।

একাধিক মিলমালিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বহু ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে জমি-জায়গা বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করেও ঋণের টাকা শোধ করা সম্ভব নয়। ফলে মিল বন্ধ করা ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা নেই।

সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হল, এই ধসের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে এক কোটিরও বেশি শ্রমিক ও কর্মীর জীবনে। টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্প বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান ক্ষেত্র। মিল বন্ধ হলে লাখ লাখ পরিবার রাতারাতি রুজি-রোজগার হারাতে পারে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট শুধু শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়বে অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয়ে, রফতানি আয়ে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এবং সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে।

সম্প্রতি ভারতের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে কড়া সুর শোনা গেলেও, বাস্তবে বাংলাদেশের শিল্প এখন ভারতের বাজার ও কাঁচামালের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল এমনটাই মত অর্থনীতিবিদদের একাংশের।

তাঁদের বক্তব্য, কূটনৈতিক উত্তেজনার ভাষা যতই জোরালো হোক না কেন, অর্থনীতির অঙ্ক শেষ পর্যন্ত বাস্তব হিসেবেই মেলে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ইউনুস নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্প বাঁচাতে না পারলে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা যেমন প্রশ্নের মুখে পড়বে, তেমনই সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

শিল্পমহলের দাবি ভারত থেকে আমদানিকৃত সুতোর উপর শুল্ক পুনর্বিবেচনা বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থায়িত্ব, ব্যাংক ঋণের সুদ ও কিস্তিতে ছাড় এবং জরুরি আর্থিক প্যাকেজ। না হলে ফেব্রুয়ারির পর বাংলাদেশ টেক্সটাইল শিল্প ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক বক্তব্যের জোর বেশি, না অর্থনৈতিক বাস্তবতার ওজন?

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google