চালু হল দেশের প্রথম এআই চালিত গোল্ড এটিএম পরিষেবা

হায়দ্রাবাদ: পুরনো সোনা বিক্রি করতে আর গয়নার দোকানের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। প্রযুক্তির হাত ধরে এবার সোনা বিক্রির পদ্ধতিতেও এল যুগান্তকারী পরিবর্তন। দেশের প্রথম ...

By Sandipa Sil

Published:

Follow Us
Sovereign Gold Bond Redemption

হায়দ্রাবাদ: পুরনো সোনা বিক্রি করতে আর গয়নার দোকানের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। প্রযুক্তির হাত ধরে এবার সোনা বিক্রির পদ্ধতিতেও এল যুগান্তকারী পরিবর্তন। দেশের প্রথম এআই-চালিত গোল্ড এটিএম (Gold ATM) চালু হল হায়দ্রাবাদে। এই আধুনিক মেশিনের সাহায্যে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই পুরনো সোনা বিক্রি করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়ে যাবেন গ্রাহকরা।

ফিনটেক সংস্থা গোল্ডসিক্কা এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বাজারে এনেছে। সংস্থার দাবি, এটি ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও এআই-সক্ষম সোনা কেনাবেচার মেশিন। এর ফলে সোনা বিক্রির ক্ষেত্রে আর দোকানদারের উপর নির্ভর করতে হবে না, দর কষাকষির ঝামেলাও থাকবে না।

   

এতদিন পুরনো সোনা বিক্রি করতে হলে গয়নার দোকানে গিয়ে বিশুদ্ধতা পরীক্ষা, ওজন নির্ধারণ, মূল্যায়ন ও দাম নিয়ে দর কষাকষির মতো দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হতো। অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হত নগদ টাকা পাওয়ার জন্য। কিন্তু এবার সেই জটিল প্রক্রিয়া সহজ করে দিল এই গোল্ড এটিএম।

কীভাবে কাজ করে এই গোল্ড এটিএম?

এই মেশিনে সোনা বিক্রির পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত।

প্রথমে গ্রাহককে কেওয়াইসি (KYC) যাচাইকরণ সম্পন্ন করতে হবে। আধার বা প্যান কার্ডের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হয়।

এরপর গ্রাহক মেশিনে পুরনো সোনা রাখবেন। সঙ্গে সঙ্গেই মেশিনটি সোনা গলানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে।

এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সোনার বিশুদ্ধতা এবং ওজন নির্ধারণ করা হবে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে।

লাইভ গোল্ড মার্কেট রেট অনুযায়ী সোনার দাম হিসাব করা হবে।

সবশেষে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই সেই টাকা সরাসরি গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনও কাগজপত্রের প্রয়োজন নেই এবং কোনও মানুষের হস্তক্ষেপও লাগে না।

এই গোল্ড এটিএমে ব্যবহার করা হয়েছে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) প্রযুক্তি। গ্রাহকরা চাইলে ভার্চুয়ালি গয়না পরে দেখতে পারবেন। অর্থাৎ কোনও গয়না তাদের পরলে কেমন দেখাবে, তা আগেই দেখে নেওয়া সম্ভব।

শুধু পুরনো সোনা বিক্রিই নয়, এই মেশিন থেকে সরাসরি ০.৫ গ্রাম থেকে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনার মুদ্রাও কেনা যাবে। মেশিনটি ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকবে।

গ্রাহকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই মেশিনে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লেনদেনের আগে অপরাধমূলক রেকর্ডও যাচাই করা হয়। কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হবে।

গোল্ডসিক্কার তরফে জানানো হয়েছে, হায়দ্রাবাদের পর দেশের বিভিন্ন বড় শহরে এই গোল্ড এটিএম বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। খুব শিগগিরই দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই ও কলকাতার মতো শহরেও এই পরিষেবা চালু হতে পারে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sandipa Sil

আইনের ছাত্রী। শিক্ষানবীশ আইনজীবী। সাংবাদিকের সঙ্গে সংসারের সূত্রে সংবাদে আগ্রহ। কলকাতা24x7-এর মাধ্যমে পথ চলার শুরু।

Follow on Google