জম্মু কাশ্মীরে মাদ্রাসা-মসজিদ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের কড়া পদক্ষেপে নতুন মোড়! কাশ্মীর উপত্যকা (Jammu-Kashmir)থেকে এবার জম্মু অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ল মাদ্রাসা ও মসজিদের প্রোফাইলিং অভিযান। ছাত্রদের বিস্তারিত তথ্য, অর্থের উৎসের হদিস, ক্লেরিক ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
jammu-kashmir-madarsa-mosque-profiling

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের কড়া পদক্ষেপে নতুন মোড়! কাশ্মীর উপত্যকা (Jammu-Kashmir)থেকে এবার জম্মু অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ল মাদ্রাসা ও মসজিদের প্রোফাইলিং অভিযান। ছাত্রদের বিস্তারিত তথ্য, অর্থের উৎসের হদিস, ক্লেরিক ও উলেমাদের সঙ্গে বৈঠক সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই উদ্যোগকে অনেকে দেখছেন র‍্যাডিক্যালাইজেশনের মূলোচ্ছেদের স্পষ্ট প্রচেষ্টা হিসেবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কঠোর নির্দেশে এই অভিযান যেন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

ঘটনার শুরু গত বছরের শেষের দিকে। ২০২৫-এর অক্টোবর-নভেম্বরে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’ ভেঙে দেয়। এতে গ্রেফতার হয় একাধিক ডাক্তার, শিক্ষক ও পেশাদার ব্যক্তি। তদন্তে উঠে আসে যে কয়েকজন সন্দেহভাজন মাদ্রাসা ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে র‍্যাডিক্যালাইজড হয়েছেন। কিছু ধর্মীয় নেতার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।

   

লিভ-ইন পার্টনারকে খুন, লোহার ট্রাঙ্কে দেহ পুড়িয়ে পলাতক প্রাক্তন রেলকর্মী

এরপরই কাশ্মীর উপত্যকায় শুরু হয় মসজিদ ও মাদ্রাসার বিস্তারিত প্রোফাইলিং। পুলিশ মাল্টি-পেজ ফর্ম বিলি করে মসজিদের আদর্শিক ধারা (বারেলভি, হানাফি, দেওবন্দি, আহলে হাদিস), নির্মাণ খরচ, অর্থের উৎস, মাসিক বাজেট, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, জমির আইনি অবস্থা সবকিছু জানতে চাওয়া হয়। ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য, পরিবারের বিবরণ, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল, পাসপোর্ট, ভ্রমণের ইতিহাস এমনকি ফোনের আইএমইআই নম্বর পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।

এই অভিযান কাশ্মীরে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। মুত্তাহিদা মজলিস-ই-উলেমা (এমএমইউ), মিরওয়াইজ উমর ফারুকের নেতৃত্বে ধর্মীয় সংগঠনগুলি একে ‘অনধিকার প্রবেশ’ বলে সমালোচনা করে। পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি, ইলতিজা মুফতি, ওয়াহিদ পারা-রা বলেন, এটা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সন্দেহের চোখে দেখা এবং সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। কেউ কেউ বলেন, এতে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিপন্ন হচ্ছে, ভয়ের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

তবে জম্মু-কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারপার্সন দারাখশান আন্দ্রাবি ও বিজেপি নেতারা এটাকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পদক্ষেপ বলে সমর্থন করেন। তাঁদের মতে, অতীতে মসজিদ থেকে রাজনৈতিক প্রচার ও অ্যান্টি-ন্যাশনাল কার্যকলাপ হয়েছে, তাই এখন নজরদারি জরুরি।এখন এই প্রোফাইলিং জম্মু অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। রিপাবলিক ডে-র আগে পুলিশ আরও সতর্ক।

জম্মু সাউথের এসপি অজয় শর্মা বলেন, কোনও মাদ্রাসা বা মসজিদকে দেশবিরোধী কাজের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। পুলিশ অফিসাররা ক্লেরিক, ছাত্র, অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ছাত্রদের ড্রাগস থেকে দূরে থাকতে, দেশবিরোধী কাজ না করতে সচেতন করা হচ্ছে। অর্থের ট্রেল, ক্লেরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা বন্ধ করতে পুলিশ পুরোপুরি প্রস্তুত।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google