৮ বছর ধরে ‘সঙ্গমে নারাজ’ স্ত্রীকে খুন স্বামীর

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে চাঞ্চল্যকর এক খুনের ঘটনা সামনে এসেছে, (Indore)যা ঘিরে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। আট বছর ধরে স্ত্রী শারীরিক সম্পর্ক রাখতে অস্বীকার করায় ক্ষোভে তাকে খুন করার অভিযোগে ...

By Sandipa Sil

Published:

Follow Us
indore-husband-kills-wife-marital-dispute

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে চাঞ্চল্যকর এক খুনের ঘটনা সামনে এসেছে, (Indore)যা ঘিরে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। আট বছর ধরে স্ত্রী শারীরিক সম্পর্ক রাখতে অস্বীকার করায় ক্ষোভে তাকে খুন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে এক স্বামী। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনাটি ইন্দোরের অ্যারোড্রোম থানা এলাকার অন্তর্গত, যেখানে গত ৯ জানুয়ারি ৪০ বছর বয়সি এক মহিলার রহস্যজনক মৃত্যু হয়।

ইন্দোরের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) শ্রীকৃষ্ণ লালচন্দানি জানিয়েছেন, প্রথমে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্ত স্বামী স্ত্রীর দেহ সরকারি মহারাজা যশবন্তরাও হাসপাতাল (এমওয়াই হাসপাতাল)-এ নিয়ে গিয়ে দাবি করে, বাড়িতে হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ায় তার স্ত্রী পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান এবং সেখান থেকেই মৃত্যু হয়। পরিবারের তরফ থেকেও প্রাথমিকভাবে তেমন কোনও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়নি।

   

বাসে মুসলিম মেয়ের গায়ে পা লাগায় হিন্দু যুবকের করুন পরিণতি

তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আসতেই পুরো ঘটনায় নাটকীয় মোড় আসে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, মহিলার মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধ। অর্থাৎ এটি কোনও দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। রিপোর্ট পাওয়ার পরই পুলিশ স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

ডিসিপি লালচন্দানি জানান, জেরার সময় অভিযুক্ত প্রথমে নানা অসংলগ্ন কথা বললেও পরে ভেঙে পড়ে এবং খুনের কথা স্বীকার করে নেয়। অভিযুক্ত পেশায় একজন মেকানিক। পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সে জানায়, বিয়ের দীর্ঘ সময় পর থেকে তার স্ত্রী গত আট বছর ধরে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক রাখতে অস্বীকার করছিল। এই বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত। দীর্ঘদিনের সেই মানসিক চাপ ও ক্ষোভ থেকেই সে চরম সিদ্ধান্ত নেয় বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশের এক আধিকারিক জানান, দাম্পত্য জীবনের এই টানাপোড়েন ধীরে ধীরে সহিংসতার দিকে গড়ায়। ঘটনার দিনও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। সেই সময়েই অভিযুক্ত স্ত্রীর উপর চড়াও হয় এবং শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখাতে দেহ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভুয়ো গল্প ফাঁদার চেষ্টা করে।

রবিবার অভিযুক্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে অন্য কোনও কারণ বা সহায়তাকারী কেউ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের পারিবারিক পটভূমি, দাম্পত্য জীবনের ইতিহাস এবং প্রতিবেশীদের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজে নতুন করে দাম্পত্য সম্পর্ক, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য সমস্যা ও মানসিক অশান্তি যদি সময়মতো সমাধান না হয়, তাহলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই দাম্পত্য কলহ গোপন থেকে যায়, বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভিতরে ভিতরে জমতে থাকে ক্ষোভ ও হতাশা।

মহিলার মৃত্যু নিয়ে তাঁর আত্মীয়স্বজনের মধ্যেও শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, দোষীর কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলে দ্রুত চার্জশিট পেশ করা হবে।

ইন্দোরের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, দাম্পত্য সম্পর্কের জটিলতা ও সহিংসতার বিষয়টি কতটা গুরুতর। শুধু আইনশৃঙ্খলার দিক থেকেই নয়, সামাজিক ও মানসিক স্তরেও এই ধরনের সমস্যার সমাধান জরুরি এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sandipa Sil

আইনের ছাত্রী। শিক্ষানবীশ আইনজীবী। সাংবাদিকের সঙ্গে সংসারের সূত্রে সংবাদে আগ্রহ। কলকাতা24x7-এর মাধ্যমে পথ চলার শুরু।

Follow on Google