নির্বাচনের আগেই কোচবিহারের রাজনৈতিক ময়দানে পালাবদল

কোচবিহার: কোচবিহার শহরের রাজনৈতিক আবহাওয়া হঠাৎই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল (Cooch Behar)। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। ২০২৬ সালের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
cooch-behar-political-shift-ahead-of-elections

কোচবিহার: কোচবিহার শহরের রাজনৈতিক আবহাওয়া হঠাৎই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠল (Cooch Behar)। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঢাক বাজতে না বাজতেই এই ঘটনা তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তরবঙ্গের সংগঠনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনে ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দলের প্রবীণ নেতা হিসেবে তিনি একসময় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। কিন্তু গত এক বছর ধরে তাঁর সঙ্গে জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে।

   

‘প্রধানমন্ত্রী হবে হিজাব পরা মেয়ে !’ দাবি ওআইসির

নভেম্বর মাসে জেলা নেতৃত্ব তাঁকে সাত দিনের মধ্যে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিলে রবীন্দ্রনাথ সোজা জানিয়ে দেন, “দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বা দাদা (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়)-র সরাসরি নির্দেশ না এলে আমি এক ইঞ্চিও নড়ব না। জেলা কমিটির কথায় পদ ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না।”

এই অবস্থানের জন্য তাঁকে অনেক তৃণমূল কর্মী-সমর্থক প্রশংসা করেছিলেন। সূত্রের খবর, গত কয়েকদিনে নবান্ন থেকে সরাসরি নির্দেশ এসেছে। দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও রাজ্য নেতৃত্বের চাপে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ অবশেষে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

পুরসভার সচিবের কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা পাঠিয়েছেন বলে নিশ্চিত খবর।এই পদত্যাগের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথমত, দলে নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়া এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমানোর চেষ্টা। দ্বিতীয়ত, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারে তৃণমূলের অবস্থান আরও মজবুত করার কৌশল। শহরের নিকাশি ব্যবস্থা, পানীয় জলের সমস্যা, রাস্তাঘাটের দুরবস্থা নিয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগ বহুদিনের।

এছাড়া পুরসভায় ‘স্টল বরাদ্দ’ নিয়ে অভিযোগ, দলীয় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ এসব মিলিয়ে দল মনে করেছে নেতৃত্বের পরিবর্তন জরুরি।পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই কোচবিহারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তৃণমূলের একাংশ কর্মী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

তাঁরা বলছেন, “এবার হয়তো শহরের কাজে নতুন গতি আসবে।” অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠ কর্মী-সমর্থকরা এটিকে “অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করছেন। বিজেপির জেলা নেতৃত্ব তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, “তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এতটাই বেড়েছে যে নির্বাচনের আগেই নেতারা একে অপরকে সরাতে ব্যস্ত। এই দল কীভাবে উন্নয়ন করবে?”

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google