ব্রিটেনে নাবালিকাকে শারীরিক হেনস্থা করে গ্রেফতার পাকিস্তানি পরিযায়ী

ব্রিটেনে নাবালিকা নির্যাতনের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে (minor rape case)। ১২ বছর বয়সি এক খ্রিস্টান কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক পাকিস্তানি পরিযায়ী যুবককে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
uk-minor-rape-case-pakistani-migrant-arrested

ব্রিটেনে নাবালিকা নির্যাতনের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে (minor rape case)। ১২ বছর বয়সি এক খ্রিস্টান কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক পাকিস্তানি পরিযায়ী যুবককে গ্রেফতার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ।

অভিযুক্তের নাম মুহাম্মদ। তদন্তের সময় অভিযুক্তের এক বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেফতারের পর সে দাবি করেছে “শরিয়া আইনে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বয়সের সীমা নেই, ব্রিটেনের নিয়ম সম্পর্কে আমি জানতাম না।”

   

মমতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের বার্তা জাতীয় বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ইংল্যান্ডের একটি শহরে। নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে বিচারাধীন এবং আদালতের নির্দেশে তদন্ত চলছে। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে নাবালিকার সঙ্গে যে কোনও ধরনের যৌন সম্পর্ক গুরুতর অপরাধ এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

অভিযুক্তের বক্তব্য সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এই বক্তব্যকে আইন অমান্য করার অজুহাত হিসেবে দেখছেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের আইনে বসবাসকারী বা আশ্রয়প্রার্থী প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই দেশের আইন সমানভাবে প্রযোজ্য। ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বিশ্বাস কোনওভাবেই ফৌজদারি অপরাধকে বৈধতা দিতে পারে না।

এই ঘটনার পর ব্রিটেনে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং অভিবাসন সংক্রান্ত যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, শিশু সুরক্ষায় আরও কড়াকড়ি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি, অভিবাসীদের জন্য আইন ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে বাধ্যতামূলক সচেতনতা কর্মসূচির কথাও উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলি সতর্ক করে দিয়েছে যাতে কোনও অপরাধের দায় পুরো সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়। তাদের বক্তব্য, অপরাধ ব্যক্তির, কোনও ধর্ম বা জাতীয়তার নয়। নাবালিকার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে তারা সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো উসকানিমূলক ভাষা ও ঘৃণামূলক বার্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

চার্চ ও স্থানীয় খ্রিস্টান সংগঠনগুলিও ঘটনার নিন্দা করেছে এবং নির্যাতিত পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নাবালিকার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে এবং তার মানসিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতে অভিযুক্তের কথিত বক্তব্য প্রমাণিত হলেও তা অপরাধ লঘু করার কোনও কারণ হতে পারে না। যুক্তরাজ্যের আইনে ‘আইন না জানা’ কোনওভাবেই অপরাধ থেকে রেহাই দেয় না। এই মামলার রায় ভবিষ্যতে শিশু সুরক্ষা এবং অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকেই।

সব মিলিয়ে, এই ঘটনা একদিকে যেমন নাবালিকার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তুলছে, তেমনই সমাজে দায়িত্বশীল ভাষা ও আইন মেনে চলার গুরুত্বও নতুন করে সামনে আনছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় এই বার্তাই দিচ্ছে ব্রিটিশ পুলিশ ও প্রশাসন।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google